স্টাফ রিপোর্টার
লালমনিরহাট-
লালমনিরহাট (সোমবার) জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাটে *"মাদককে না বলুন, নিজেকে ভালোবাসুন"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক মাদকবিরোধী মুক্ত আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। **মাদক নির্মূল কমিটি (মানিক)-এর উদ্যোগে এবং *দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি*-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. নুরুজ্জামান আহমেদ মাদক নির্মূল কমিটি (মানিক)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি **মো. জাহাঙ্গীর আলম, আহ্বায়ক, বিএনপি কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা ও তিনবারের সফল চেয়ারম্যান (৫ নং চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ), তার বক্তব্যে বলেন—
_"আমার ইউনিয়নে কোনো মাদকসেবন চলবে না। ভবিষ্যতে সকল নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান ভোট কোনো মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ীদের দেবেন না। সমাজ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—
*মাওলানা মো. রুহুল আমীন আমির, জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ, কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা। তিনি বলেন—পবিত্র কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনা করলে আমরা মাদক, ধর্ষণসহ সমাজের যাবতীয় অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবো।
-আক্কেল আলী মাস্টার বলেন—
_"বর্তমানে দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই, ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মাদকসেবীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটিপতি হয়ে উঠছে। আসুন, আমরা সবাই মাদক থেকে বিরত থাকি এবং সমাজকে রক্ষা করি।
- এসকে কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ ও সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সরকার তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
*সাংবাদিক কল্লোল আহমেদের বক্তব্য*
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক **কল্লোল আহমেদ** বলেন—
_"আজকের এই মাদকবিরোধী সভায় উপস্থিত হয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আবার একইসঙ্গে দুঃখিতও। আনন্দিত, কারণ সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একত্রিত হয়েছেন একটি মহৎ উদ্যোগে। কিন্তু দুঃখিত এই কারণে যে, আমাদের সমাজে মাদকের ভয়াবহতা এতটাই বিস্তার লাভ করেছে যে, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আমাদের বিশেষ সভার আয়োজন করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন—
_"মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং পুরো জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে, অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে, পরিবারগুলো ভেঙে পড়ছে, সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
-মাদক নির্মূলে কিছু করণীয়*
সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সাংবাদিক কল্লোল আহমেদ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন—
1. * পরিবারের ভূমিকা: সন্তানদের প্রতি বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে এবং তাদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে।
2. * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব: শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
3. * আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতা: মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
4. * সামাজিক আন্দোলন: সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
5. * পুনর্বাসন কেন্দ্র বৃদ্ধি: যারা ইতোমধ্যে মাদকের শিকার হয়েছেন, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে **ডা. নুরুজ্জামান আহমেদ** বলেন—
_"মাদক সেবনের ক্ষতিকর দিকগুলো পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়—
(১) শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি,
(২) পারিবারিক ক্ষতি,
(৩) সামাজিক ক্ষতি,
(৪) অর্থনৈতিক ক্ষতি,
(৫) গর্ভের শিশুর ক্ষতি।
আমরা দেখতে পাই, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়ত মাদকের কারবার চলছে। প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। এই সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলা ইনশাআল্লাহ একদিন মাদকমুক্ত হবেই। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদক অধিদপ্তরকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক নির্মূল কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।_"
সবশেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলার প্রায় **২০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় জনগণ** উপস্থিত ছিলেন।
আমাদের প্রত্যাশা—এই সভা যেন শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পথ সুগম হয়।