কামরাঙ্গীরচরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

Date: 2026-04-24
news-banner

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান পতিবেদক):

 

সারাদেশে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। যা চলবে আগামী ২০ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত। পরে প্রাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো ০৭ জুন হতে ১৪ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার নিদের্শনা রয়েছে।

 

দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে এসব পরীক্ষার্থীদের সাথে আসা অভিভাবকদের আইন অনুযায়ী সন্তানের পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, শহরাঞ্চলের অনেক পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এ সকল অভিভাবকদের বসার কোনো পরিবেশ থাকে না। উপরন্তু দূরদূরান্ত থেকে আসা এই মানুষগুলোর দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ক্লান্তি লাঘবে আশেপাশে নিরাপদ পানি ও জলখাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও থাকে না। এ সময়ে বৈশাখের এই তীব্র গরমে তপ্ত রোদে পুড়ে দাঁড়িয়ে থেকে থেকে জীবন যেন অসহনীয় হয়ে ওঠে।

 

এ অবস্থায় এক প্রশংসনীয় উদ্যোগের আয়োজন করেন কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির আহবায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ প্রার্থী মোহাম্মদ নাঈম। তিনি নিজ এলাকায়, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন ‘ঐতিহ্যবাহী কামরাঙ্গীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ পরীক্ষাকেন্দ্র সংলগ্ন বেড়িবাঁধের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বিশাল জায়গাজুড়ে অস্থায়ী ছাউনী গড়ে দেন, আগত অভিভাবকদের বসার জন্য। তাঁদের জন্য ব্যবস্থা করেন হালকা নাস্তা ও বিশুদ্ধ পানিয়। এতে করে অভিভাবকবৃন্দ অনেকটা স্বস্তিতে অপেক্ষার প্রহর পার করতে পেরে এই আয়োজনকে স্বাগত জানান।

 

এ বিষয়ে মোহাম্মদ নাঈম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হামিদুর রহমান হামিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। তাঁর নির্দেশনায়ই আজকের এই উদ্যোগ।” যতদিন পরীক্ষা চলবে ততদিন এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ নাঈম।

 

পরীক্ষার দিনে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় নানা কষ্টের মধ্যে দিয়ে। তাঁরা বলেন, “সন্তানদের পরীক্ষা নিয়ে এমনিতেই মানসিক চাপ থাকে তার ওপর দীর্ঘ সময় রোদের মেধ্যে বা খোলা জায়গায় বসে থাকা কষ্টকর। ছাউনির নিচে বসার সুযোগ করে দেয়া, পানিয় ও নাস্তার ব্যবস্থা করায় অনেকটা স্বস্তি পাওয়া গেছে।” তারা এই আয়োজনকে জনপ্রতিনিধিদের মানবিকতা, রাজনৈতিক ভিন্নতা, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও জনসেবামূলক কাজের দৃষ্টান্ত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

Leave Your Comments