ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দাম

Date: 2026-04-23
news-banner

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়াভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ কনডম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান Karex Berhad।

বার্তা সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী Goh Miah Kiat জানান, সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে কনডমের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এর চেয়েও বেশি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, শিপিং বিলম্ব এবং অনেক দেশে কমে যাওয়া মজুদের কারণে কনডমের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। “পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক… এই মুহূর্তে গ্রাহকদের ওপর খরচ চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই,”—বলেন তিনি।

বিশ্ববাজারে কনডম সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কারেক্স বছরে ৫০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটি Durex ও Trojan-এর মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের National Health Service (NHS) এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতেও সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, The Guardian-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সিন্থেটিক রাবার, নাইট্রাইল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও সিলিকন তেলের মতো উপকরণের দাম বেড়েছে, যা উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বর্তমানে কারেক্সের কাছে কয়েক মাসের কাঁচামাল মজুত থাকলেও বাড়তি চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের USAID-এর ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে আগের বছর থেকেই বৈশ্বিক কনডম মজুদ কমতে শুরু করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছরে কনডমের বৈশ্বিক চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি শিপিং বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে—আগে যেখানে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে এক মাস সময় লাগত, এখন তা প্রায় দুই মাস পর্যন্ত সময় নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave Your Comments