মোঃআলামিন হোসেন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ):
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল এলাকায় পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো (ইরি) ধান কাটার মহোৎসব। দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। অনুকূল আবহাওয়া আর রেকর্ড ফলনের আশায় কৃষকদের চোখেমুখে এখন স্বস্তির হাসি। মাঠের সোনালি ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চলনবিলের প্রান্তিক চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রবি মৌসুমে তাড়াশ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ হাজার ৫১০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। অনুকূল আবহাওয়া আর পর্যাপ্ত সেচ সুবিধার কারণে এবার ধানের গাছ হয়েছে হৃষ্টপুষ্ট এবং ফলনও হয়েছে আশানুরূপ।
সরেজমিনে চলনবিলের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চারিদিকে ধান কাটার ধুম পড়েছে। কোথাও সনাতন পদ্ধতিতে শ্রমিকরা দলবেঁধে ধান কাটছেন, আবার কোথাও আধুনিক ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ মেশিন দিয়ে দ্রুত গতিতে ধান কাটার কাজ চলছে। যান্ত্রিক ও কায়িক—উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারায় কৃষকরা বেশ আনন্দিত।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর সময়মতো মানসম্মত বীজ, সার এবং নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাওয়ায় ধানের ফলন বিগত বছরের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। তারা জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া চাষিদের অনুকূলে রয়েছে। যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তবে এবার বাম্পার ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কৃষকরা দ্রুত ও নির্বিঘ্নে তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পারেন। ধান কাটার বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে চলনবিল এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নতুন ধানের ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের আঙিনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বোরো ধানের এই বাম্পার ফলন স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল করবে।