যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে আবারও বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে Donald Trump প্রশাসন। গুরুতর ফেডারেল অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য তিনটি বিকল্প পদ্ধতি—ফায়ারিং স্কোয়াড, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা এবং গ্যাস প্রয়োগ—নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা থাকায় বিকল্প পদ্ধতি খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই নতুন এই তিনটি পদ্ধতি বিবেচনায় আনা হয়েছে।
বিচার বিভাগের একটি ৫২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এসব পদ্ধতির বিস্তারিত সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভূমিকায় ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের নীতির কারণে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তার ভাষায়, এর ফলে ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার এবং পুরো সমাজকে এর নেতিবাচক প্রভাব বহন করতে হয়েছে।
Donald Trump তার দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পুনরায় জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবেই বিচার বিভাগ সক্রিয়ভাবে নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। উল্লেখ্য, তার প্রথম মেয়াদের শেষদিকে—২০২১ সালে—প্রায় দুই দশক বিরতির পর ফেডারেল পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পুনরায় চালু করা হয়। তখন প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে ১৩ জন ফেডারেল বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, যা আগের ৫০ বছরে মোট কার্যকরের সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।
পরবর্তীতে Joe Biden প্রশাসন ক্ষমতায় এসে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ আরোপ করে। তবে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে এসে ট্রাম্প সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে তার প্রশাসন দেশজুড়ে ৪০ জনের বেশি আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে মামলা এগিয়ে নিচ্ছে, যদিও এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বেশিরভাগই রাজ্য সরকারগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে ফেডারেল পর্যায়ে এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তন পুরো দেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতিগুলো কার্যকর হলে তা মানবাধিকার, নৈতিকতা এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।