পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: ইরান

Date: 2026-04-25
news-banner

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি। একই পোস্টে তিনি নিশ্চিত করেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে Islamabad-এ পৌঁছেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইসলামাবাদ সফরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং চলমান সংকট নিরসনের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত আগ্রাসী নীতির প্রেক্ষাপটে অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ইসলামাবাদ সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে অবস্থানকালে সম্ভাব্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।

তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency দ্রুত সেই প্রতিবেদন খণ্ডন করে। সংস্থাটি জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাই ইরানের কূটনৈতিক এজেন্ডায় নেই। ইসলামাবাদ সফরের উদ্দেশ্য কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়।

তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিজেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তার সফরের মূল লক্ষ্য হলো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো। কোনো তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি সফরসূচিতে নেই।

অন্যদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা ও উপদেষ্টা Jared Kushner-কে পাকিস্তানে পাঠানো হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই এই সফর আয়োজন করা হচ্ছে।

তবে ইরান এসব জল্পনা নাকচ করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। দেশটির অবস্থান অনুযায়ী, চলমান উত্তেজনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার সম্ভাবনা খুবই কম।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, আর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান আঞ্চলিক নৌপথ ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষ করে Strait of Hormuz ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ সফর ইরানের আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার গুঞ্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কূটনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে। তবে ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান সফর কেবল পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ইস্যুতে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

Leave Your Comments