যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনার নতুন মোড় নিয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ছিলেন Noakhali Science and Technology University-এর অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডক্টরাল গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।
বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানান, স্থানীয় পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, পুলিশ জানিয়েছে যে বাসার ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মানবদেহের একটি অংশের সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা করে বৃষ্টির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার আগেই আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হিলসবরো এলাকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সংবাদ সম্মেলনে জানায়, Howard Frankland Bridge এলাকা থেকে জামিল লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জামিল লিমন ছিলেন University of South Florida-এর ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে পিএইচডি গবেষক। তার মৃত্যু ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন একটি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহে তদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি নিহত জামিল লিমনের রুমমেট বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য, সময়রেখা ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি Consulate General of Bangladesh in Miami-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও বিষয়টির দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছে।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের মর্মান্তিক পরিণতি তারা কখনো কল্পনাও করেননি। বৃষ্টির স্বজনদের দাবি, সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত তারা বিচার চেয়ে যাবেন। অন্যদিকে জামিল লিমনের সহপাঠী ও বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।