নিজস্ব প্রতিবেদক | সাজ্জাদ আহমেদ ঢাকা
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের মাজার রোড এলাকাটি এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক কেনাবেচার রমরমা আসর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এখানে গড়ে উঠেছে গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য।
মাজার রোডের অলিগলি, বিশেষ করে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকা ও গাবতলী অভিমুখী সড়কের কিছু নির্দিষ্ট পয়েন্টে মাদকের কারবার সবচেয়ে বেশি চলে। সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাথের ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে অন্ধকার গলিগুলোতে মাদক বিক্রেতারা ওৎ পেতে থাকে। সিএনজি চালক, রিকশাচালক এবং উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণরা এই মাদক বাণিজ্যের প্রধান টার্গেট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "এখানে মাদকের কারবার ওপেন সিক্রেট। বিশেষ করে গাঁজার পুড়িয়া এখানে খুচরা মূল্যে সহজলভ্য। মাদক কারবারিরা এতটাই বেপরোয়া যে, সাধারণ পথচারীদের সামনেই চলে লেনদেন। বাধা দিতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয়।"
অনুসন্ধানে জানা গেছে:
গাঁজার সিন্ডিকেট: মাজার রোড ও তৎসংলগ্ন বস্তি এলাকাগুলো থেকে মূলত গাঁজার বড় চালানগুলো খুচরা বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যায়।
ইয়াবার বিস্তার: গাঁজার পাশাপাশি মরণনেশা ইয়াবাও এই এলাকার তরুণ সমাজের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
ছদ্মবেশী বিক্রেতা: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অনেক সময় চা বিক্রেতা বা হকার সেজে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
মাদকের এই অবাধ বিস্তারের কারণে মাজার রোড এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকসেবীদের উৎপাত আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সাধারণ মানুষ রাতে এই পথ দিয়ে একা চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, মাঝেমধ্যে ছোটখাটো অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
আমরা চাই আমাদের সন্তানরা মাদকমুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠুক। কিন্তু মাজার রোডের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের শঙ্কিত করে তুলছে। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মাদক সাম্রাজ্য নির্মূল করা সম্ভব নয়