বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৮৬ শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। গবেষণায় দেশের ৮ বিভাগের ৮টি এলাকা থেকে ৬,১৪৬ জন শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে প্রতি হাজারে প্রায় ১৯ জন শিশুর হৃদপিণ্ডে জন্মগত সমস্যা ধরা পড়েছে। সমস্যার মধ্যে রয়েছে হার্টে ছিদ্র, ভালভের অসামঞ্জস্য এবং অন্যান্য জটিলতা।
বিএমইউ-এর শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মগত হৃদরোগের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর কারণ হিসেবে তিনি শিক্ষার অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সীমিততা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহাকে উল্লেখ করেছেন।
শিশুদের প্রায় অর্ধেকের সার্জারির প্রয়োজন হয়, কিন্তু ঢাকার বাইরে এই ধরনের চিকিৎসা খুব সীমিত। রাজধানীতেও মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা সম্ভব।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তওফিক শাহরিয়ার হক বলেন, জন্মের এক মাসের মধ্যে যেসব শিশু মারা যায়, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ জন্মগত হৃদরোগ। গর্ভাবস্থায় ইকোকার্ডিওগ্রাফির মাধ্যমে হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব, যা জন্মের পর কী ব্যবস্থা নিতে হবে তা পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।
জন্মগত হৃদরোগের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ এবং বায়ুদূষণ এড়ানোর পরামর্শ দেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, খাবারে ব্যবহৃত কেমিক্যাল এবং ফসলের রাসায়নিক প্রভাব জন্মগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। প্লাসেন্টাতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগজনক।
জন্মের পর শিশুদের লক্ষণ যেমন: শ্বাসকষ্ট, ত্বক ও ঠোঁটের নীলচে বা ধূসর রং, দ্রুত হৃৎস্পন্দন এবং ওজন বৃদ্ধি না হওয়া—এইগুলো জন্মগত হৃদরোগের প্রধান ইঙ্গিত। দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ শিশুই সুস্থ হয়ে ওঠে। গর্ভাবস্থায়ই হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নিলে শিশুর জীবন রক্ষা করা যায়।