নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর (সওজ) ঘিরে গড়ে ওঠা কথিত ‘কাদের চক্র’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় প্রশাসনিক সংস্কার এবং পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও সওজে সেই পরিবর্তনের ছাপ তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে যে, অতীতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এবং রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী বলে সমালোচিত কিছু কর্মকর্তা আবারও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসছেন অথবা নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
এসব আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমান ও প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের নাম। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ট্রুথ কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রমে আলোচিত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তার নামও উঠে এসেছিল। যদিও ওই সময়ের বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক নথি, বিচারিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি অবস্থান পর্যালোচনা ছাড়া চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সওজের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে সড়ক ভবনের প্রশাসনিক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যাকে অনেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘কাদের চক্র’ নামে উল্লেখ করে থাকেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বদলি, পদায়ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশ সফর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। তাদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পরও সেই কাঠামো পুরোপুরি ভাঙেনি।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে পুনর্বিন্যাস শুরু হলেও সড়ক ভবনের চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, প্রকৃতপক্ষে সংস্কার হচ্ছে নাকি পুরোনো বলয়ের সদস্যদের নতুনভাবে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। সমালোচকদের ভাষ্য, যেসব কর্মকর্তা অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, তাদের অনেকে এখনও একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন।
সাম্প্রতিক একটি পদায়ন আদেশে এক কর্মকর্তাকে সরিয়ে এ.কে.এম আজাদ রহমানকে ঢাকা জোনে দায়িত্ব দেওয়া হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত। তবে প্রশাসনের অন্য একটি অংশ বলছে, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সওজের অভ্যন্তরে প্রচলিত বিভিন্ন অভিযোগে বলা হয়, এ.কে.এম আজাদ রহমান দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি বলয়ের অংশ ছিলেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখতেন। অভিযোগকারীদের মতে, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
আজাদ রহমানকে ঘিরে আলোচনায় নিয়মিতভাবে আরেকটি নাম উঠে আসে—প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। সওজের একাধিক সূত্রের দাবি, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আজাদ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদার ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
অভিযোগকারীদের মতে, প্রশাসনিকভাবে স্পর্শকাতর অনেক কাজ সরাসরি না করে বিশ্বস্ত সহযোগীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার একটি সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে সওজে বিদ্যমান ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নুরুল ইসলামকে অনেকেই আজাদ রহমানের ‘ডানহাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা পালন করতেন, ফলে বিতর্ক তৈরি হলেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা আড়ালে থাকার সুযোগ পেতেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়নি।
সওজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে ‘কাদের চক্র’ নামে পরিচিত এই কথিত সিন্ডিকেট ধীরে ধীরে একটি সুসংগঠিত কাঠামোয় পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা মূলত তিনটি স্তরে কাজ করত। প্রথমত, বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণ; দ্বিতীয়ত, প্রকল্প ও ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ; এবং তৃতীয়ত, বিদেশ সফর ও আর্থিক সুবিধা ব্যবস্থাপনা।
বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই সওজে নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পদায়ন পেতে হলে নির্দিষ্ট বলয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন হতো। অন্যদিকে যারা সেই বলয়ের বাইরে ছিলেন, তাদের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সওজ দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। অভিযোগকারীদের মতে, এই বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, যারা প্রকল্প বণ্টন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদেশ সফর নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সওজের একাধিক সূত্রের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরপরই অন্তত কয়েক ডজন কর্মকর্তাকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সফরের অনুমতি দেওয়া হয়। দাপ্তরিকভাবে এসব সফরকে প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় বা সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও সমালোচকরা এর প্রয়োজনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কিছু সূত্র আরও দাবি করেছে, বিদেশ সফরের আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাবেক ক্ষমতাকেন্দ্রিক বলয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আর্থিক কর্মকাণ্ড বিদেশে স্থানান্তরের বিষয়ে গোয়েন্দা পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায়, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে এসব অভিযোগ এখনো অপ্রমাণিত।
এই পুরো আলোচনায় বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রকৌশলীদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেও তিনি এমন একটি কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যার মাধ্যমে পুরোনো প্রভাবশালী বলয়কে সক্রিয় রাখা সম্ভব হচ্ছে। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ.কে.এম আজাদ রহমান এবং নুরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ত্রিমুখী সমন্বয় গড়ে উঠেছে, যা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে।
সওজের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঠিকাদার সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এর ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ছে এবং সরকারবিরোধী অসন্তোষ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হোক বা না হোক, এগুলো সওজের অভ্যন্তরে আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দেয়। কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যখন বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠে, তখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
সওজের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে পুরোনো প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভাঙেনি। তাদের ভাষ্য, বদলি, টেন্ডার, প্রকল্প এবং বিদেশ সফরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনও একই ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
অন্যদিকে প্রশাসনের একটি অংশ মনে করে, অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। তাদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তাহলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সওজের মতো একটি বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের সড়ক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিপুল সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে এখানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের অংশ।
তাদের মতে, বর্তমান বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-অভিযোগগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি ও সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত। আর যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সওজকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত একটি বড় প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের যেসব কর্মকর্তা অতীতে বিতর্ক, অভিযোগ বা অনুসন্ধানের আলোচনায় ছিলেন, তারা যদি এখনও একইভাবে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন, তাহলে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা সফল হচ্ছে—সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। একইসঙ্গে এটিও সত্য যে অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান, স্বচ্ছ তদন্ত এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া।
ফলে আজাদ রহমান, ও নুরুল ইসলামকে ঘিরে যে অভিযোগগুলো বর্তমানে আলোচিত হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানই হতে পারে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ। আর সেই অনুসন্ধানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, সওজে কথিত ‘কাদের চক্র’ সত্যিই সক্রিয় রয়েছে কিনা, নাকি এটি প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।