ডেঙ্গু সংক্রমণ অক্টোবর মাসে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মহাখালী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪৯ জন রোগী, যাদের মধ্যে ১২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৭৯ জন রোগী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি রোগীর প্রায় ৮০ ভাগই নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছে। এছাড়া ভাটারা, বাড্ডা ও ডেমরার রোগীরাও রয়েছেন। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, তাদের এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথাযথ ওষুধ স্প্রে করা হয় না, যার কারণে মশার সংখ্যা বেড়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
গত বছর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার। এ বছর তা ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি স্ট্রেন থাকায় একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা রোগের জটিলতা বাড়ায়।
ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক, বলেছেন, রোগীরা দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্ত করতে পারেন, এজন্য পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। এই পদক্ষেপে মানুষ টেস্টে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, এডিস মশা এখনো ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত মাত্রায় আছে। সাধারণত নভেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে শুরু করে, তবে এই বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও তা থাকবে।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।