আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরো:
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য— শ্যাওলা, কচুরিপানা মূল, ট্যাপ-পনা ও দুলালী লতা—এসব জলজ উদ্ভিদই এখন কোটি টাকার ব্যবসার সম্বল। তবে এগুলো বিক্রি হয় না কোনো স্থলবাজারে, বরং নদীর বুকে জমে ওঠা ভাসমান বাজারে।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা ইউনিয়নের বেলুয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দেশের বৃহত্তম এই ভাসমান বাজারে সপ্তাহে দুই দিন—শনিবার ও মঙ্গলবার—ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার ওপর বসে হাট। নদীর বুকজুড়ে নৌকাই যেন একেকটি দোকান।
ভাসমান কৃষির প্রধান উপাদান শ্যাওলা–পনা
সারাবছর পানির নিচে ডুবে থাকা এ অঞ্চলে প্রচলিত কৃষি সম্ভব নয়। তাই কৃষকরা নির্ভর করেন ভাসমান কৃষি প্রযুক্তির ওপর। শ্যাওলা, কচুরিপানা মূল, ট্যাপ ও পনা জড়িয়ে তৈরি করা হয় বেড বা ‘ম্যাদা’, যার ওপর সবজি চারা উৎপাদিত হয়।
একজন কৃষক বলেন,চারা উৎপাদনে এসব ছাড়া উপায় নেই। এগুলো না থাকলে এ অঞ্চলের কৃষি থমকে যাবে।
ব্যবসায়ীদের মুখে সাফল্যের গল্পঃ
ব্যবসায়ী জুলফিকার বলেন, সারাবছর এ ব্যবসা করি। নৌকা ভর্তি ট্যাপ-পনা ২ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। কোনো চালান লাগে না। বছর শেষে ভালোই আয় থাকে।
আরেক ব্যবসায়ী কবির শেখ জানান,২০০ টাকা আঁটি কিনে গ্রামে বিক্রি করলে লাভ ভালো হয়। স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই শ্যাওলা–পনার ব্যবসা করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।
कृषि সম্প্রসারণ বিভাগের বক্তব্যঃ নাজিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান মিল্টন বলেন, এই জলজ উদ্ভিদগুলোর ব্যাপক চাহিদা আছে। এগুলো জৈব সার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বছরে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় এখানে। ফলে এ অঞ্চলের চারা সারা দেশে সুনাম পেয়েছে।