নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ছোট্ট গ্রাম পানিপাড়া প্রকৃতি ও পাখির অপরূপ সমন্বয়ে যেন এক স্বপ্নলোক। পাখির কলতান, ছায়া-শীতল পথ, বনানী ও মধুমতী নদীর তীর—সব মিলিয়ে গ্রামটিতে পা রাখলেই মন ভালো হয়ে যায়। বিশেষ করে শীতের শুরুতে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি এসে ভিড় জমালে সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।
গ্রামের অরুণিমা ইকো পার্ক বর্তমানে দেশি ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর শীত মৌসুমসহ প্রায় আট মাস ধরে এখানে শোনা যায় নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলি। ‘পাখি সংরক্ষিত এলাকা’ হিসাবে ঘোষণার ফলে এটি ‘পাখিদের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। প্রজননের উপযোগী পরিবেশে প্রতিবছরই বাড়ছে পাখির সংখ্যা।
সরেজমিন দেখা গেছে, পার্কের গাছের ডালে ডালে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পাখির বাসা। এখানে রয়েছে সাদা বক, হাঁসপাখি, পানকৌড়ি, শামুকখোলা, শালিক, টিয়া, দোয়েল, ময়না, মাছরাঙা, ঘুঘু, শ্যামা, কোকিল, টুনটুনি ও চড়ুইসহ বহু প্রজাতির পাখি।
স্থানীয়রা জানান, নিরিবিলি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বছরজুড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা গ্রামটিতে ভিড় করেন। ভোরে এলাকার মানুষের ঘুমও ভাঙে পাখির ডাকে। খুলনা থেকে বেড়াতে আসা সোয়েবুজ্জামান বলেন, “গ্রামটি এত সবুজ যে মন ভরে যায়। পার্কে হাজার হাজার পাখি দেখা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। এটি যেন প্রকৃতির কোলে তৈরি এক নিখুঁত পাখির অভয়াশ্রম।”
অরুণিমা ইকো পার্ক ও গলফ ক্লাবের সহকারী ব্যবস্থাপক (এজিএম) সাজিকুল ইসলাম বেল্টু বলেন, “৫০ একর জায়গাজুড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে পার্ক ও গলফ ক্লাব তৈরি করা হয়েছে। বছরজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি ও দেশি পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। বিশেষ করে শীতে আকাশে দল বেঁধে পাখির ওড়া দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।”