গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-এর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তারা ভারত থেকে পলাতক রয়েছেন।
আজ (১৭ নভেম্বর) দুপুরে আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার দুই উপায়ে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে সাজা কার্যকর করতে পারে:
-
ভারতের সঙ্গে ২০১৩ সালের এক্সট্রাডিশন চুক্তি (Extradition Treaty) অনুযায়ী:
যেহেতু তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত, বাংলাদেশ তাদের ফেরত চাইতে পারে। যদি ভারত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তাহলে আসামিদের ফেরত দেবে।
-
ইন্টারপোলের মাধ্যমে:
আন্তর্জাতিক পুলিশের সহযোগিতায় (Red Notice ইস্যু করে) আসামিদের চিহ্নিত করে দেশে ফেরত আনা সম্ভব।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আরও আশ্বাস দেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল সাফল্যের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করেছে এবং পৃথিবীর যেকোনো আদালতে এই সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করলে আসামিরা একই শাস্তি পাবেন।
এছাড়া, রায়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।