গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। তবে তিনি ইতিহাসে একমাত্র শাসক নন যিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে বহু রাষ্ট্রপ্রধানই ক্ষমতা হারানোর পর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন—কারও সাজা হয়েছে, কারও হয়েছে মৃত্যুদণ্ড, আবার অনেকে পালিয়ে বেঁচেছেন নির্বাসনে।
নিকোলাই চচেস্কু — রোমানিয়ার ‘লোহমানব’ থেকে পতন
কমিউনিস্ট নেতা নিকোলাই চচেস্কু ১৯৬৫ সালে রোমানিয়ার ক্ষমতা দখল করেন। প্রথমদিকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রশংসা পেলেও, ১৯৭১ সালে উত্তর কোরিয়া–চীন সফরের পর তিনি একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন।
-
গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিকিউরিটেট’ পুরো দেশকে নজরদারিতে রাখে
-
অর্থনৈতিক দুর্দশায় দেশজুড়ে দেখা দেয় খাদ্য ও জ্বালানি সংকট
-
১৯৮৯ সালের গণবিক্ষোভে সেনারা জনগণের পাশে দাঁড়ায়
-
চচেস্কু ও এলেনা পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়েন
২৫ ডিসেম্বর তড়িঘড়ি সামরিক আদালতে চচেস্কু দম্পতির বিরুদ্ধে গণহত্যা, অর্থনীতি ধ্বংস এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গুলি চালিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সাদ্দাম হোসেন — ইরাকের পতিত স্বৈরশাসক
২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের সময় ক্ষমতাচ্যুত হন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। আট মাস পর তিনি মার্কিন বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।
তাকে ১৯৮২ সালে দুজাইলে ১৪৮ শিয়া নাগরিককে হত্যার অভিযোগে বিচার করা হয়।
হোসনি মোবারক — দীর্ঘ বিচার, কম শাস্তি
মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক তিন দশক ক্ষমতায় ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—
তবে বহু বছরের বিচার প্রক্রিয়ার পর তিনি অধিকাংশ অভিযোগে খালাস পান। কেবল ছোটখাটো একটি দুর্নীতি মামলায় তিনি সাজা ভোগ করেন।
হিসেন হাব্রে — আফ্রিকার প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরশাসক
চাদের সাবেক একনায়ক হিসেন হাব্রেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সেনেগালের বিশেষ আফ্রিকান আদালত ২০১৭ সালে দোষী সাব্যস্ত করে।
-
গণহত্যা
-
যৌন নিপীড়ন
-
নির্যাতন
এগুলো ছিল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ। আফ্রিকায় এ ধরনের বিচার ঐতিহাসিক নজির তৈরি করে।
পালিয়ে যাওয়া বা নির্বাসনে যাওয়া নেতারা
ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ — রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্টের পতন
২০১৪ সালে ইউক্রেনজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হন।
ইউক্রেনের পার্লামেন্ট তাকে অপসারণ করে এবং তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে আশ্রয় নেন।
বাশার আল-আসাদ — সিরিয়ার দীর্ঘ যুদ্ধ ও বিতর্কিত পতন
রাশিয়ার সমর্থনে দুই যুগ ক্ষমতায় থাকলেও ২০২3 সালের দিকে হঠাৎ বিদ্রোহীদের অভিযানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন বলে দাবি করা হয়।
রাশিয়ার সরকার তাকে ও তার পরিবারকে ‘মানবিক আশ্রয়’ দিয়েছে বলে মস্কোর সূত্র জানায়।