গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন হওয়ার এক বছর পর আজ (১৭ নভেম্বর) ‘মিসকেস’ বা বিবিধ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। মামলাটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর, যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করা হয় এবং একই দিনে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
প্রাথমিকভাবে একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর চলতি বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও মামলায় আসামি করা হয়। ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। একই প্রতিবেদনে প্রথমবার আসাদুজ্জামান খানের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে মামলায় বর্তমানে তিনজন আসামি—শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
গত ১ জুন ট্রাইব্যুনালে তিন আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়, যা মামলাটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়। ১০ জুলাই সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। এরপর ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য দেন, যা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুতর আহত খোকন চন্দ্র বর্মণ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর, এরপর ১২ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, ‘মিসকেস’ মামলার সূচনা থেকে রায় ঘোষণার দিন পর্যন্ত সময় লেগেছে ৩৯৭ দিন। আজ এর রায় প্রকাশিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে যাচ্ছে।