পাকিস্তানের সংসদ দেশের বর্তমান সেনাপ্রধান মার্শাল আসিম মুনিরকে আজীবন দায়মুক্তি প্রদানের জন্য একটি সাংবিধানিক সংশোধনী অনুমোদন করেছে। এই পদক্ষেপ সমালোচকরা গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও বিচারিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন।
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী আইনে পরিণত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, মুনির পাকিস্তানের শীর্ষ আদালতের পরিচালনা পদ্ধতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবেন। পরিবর্তনের পক্ষ সমর্থকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশাসনিক কাঠামো প্রদান করবে এবং আদালতে মামলার জট কমাতে সহায়ক হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “পাকিস্তান এখন আর হাইব্রিড সিস্টেম নয়, বরং পোস্ট-হাইব্রিড সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। এখানে বেসামরিক ও সামরিক সম্পর্কের ভারসাম্য প্রায় শূন্য।”
সংশোধনীর ফলে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করা সেনাপ্রধান মুনির নৌ ও বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানও করবেন। তার ফিল্ড মার্শাল পদবি এবং পোশাক আজীবনের জন্য থাকবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অবসর গ্রহণের পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হবে।
এ পদক্ষেপকে সেনাবাহিনীর ক্ষমতায়নের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের সহ-সভাপতি মুনিজা জাহাঙ্গীর বলেন, “ক্ষমতার ভারসাম্য সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকানো হয়েছে, এমন এক সময়ে যখন সেনাবাহিনীতে নিয়ন্ত্রণ টানার প্রয়োজন ছিল।”