আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ভিকটিম আব্দুলের মরদেহ কবর থেকে তুলে তার পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাকে শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৬ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইলে পুলিশের গুলিতে পাঁচ তরুণ নিহত হন এবং একজন আহত হন। এরপর নিহতদের লাশের সঙ্গে আহত তরুণকেও একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভয়াবহ এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
চলতি বছরের ২ জুলাই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের পর ২১ আগস্ট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়।
আসামিদের মধ্যে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনো পলাতক। আর কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন—
-
ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী,
-
সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম,
-
পরিদর্শক আরাফাত হোসেন,
-
এসআই মালেক,
-
এসআই আরাফাত উদ্দিন,
-
এএসআই কামরুল হাসান,
-
কনস্টেবল আবজাল ও
-
কনস্টেবল মুকুল।
এদিকে, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ১৪তম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এদিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ীতে তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে নয়জনকে হত্যা মামলায় আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইদিন জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ দুইজনের বিরুদ্ধেও ওই একই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এবং বিচারবহির্ভূত