শাহ্ আলমঃ
শরিয়তপুরের পিতৃহীন অসহায় রোজিনা তার পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে নিজের জীবনের সুখের কথা চিন্তা না করে, পারি জমান সুদূর সৌদি আরবে, সেখানে পরিচয় হয় পটুয়াখালী কলাপাড়ার আর এক প্রবাসী ফাতেমার সাথে, দীর্ঘ দিন পাশাপাশি থেকে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে পার করেন প্রবাস জীবন।
২০২৪ এর শেষের দিকে দেশে ফিরে আসেন রোজিনা, কিছু দিন পরে ফাতেমাও দেশে আসেন, এক সময় একে অপরে সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় এই দুই র্যামিট্যান্স যোদ্ধার, পিতৃহীন রোজিনা তখন ক্যান্সারাক্রান্ত মা-এর চিকিৎসার ব্যায়ভার জোগাতে ও পারিবারে আর্থিক সহযোগীতা করতে, নারায়ণগঞ্জের একটি ছোট্র কারখানায় কাঁজ নিয়ে ওখানেই ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।
ফাতেমা তখন রোজিনার সাথে যোগাযোগ করেন এবং পরিচয় করিয়ে দেন ফাতেমার এলাকা পটুয়াখালী কলাপাড়ার ধুলাসার এলাকার আয়ুব আলী ও মাহিনুর দম্পতীর ছেলে মোবাইল মেকানিক রেজাউল এর সাথে রেজাউল তখন নারায়ণগঞ্জেই একটা মোবাইল দোকানে মেকানিকস এর কাজ করেন, সেই সূত্র ধরে রোজিনার বাসায় যাতায়ত শুরু করেন, এক সময় ফাতেমা, রেজাউলের সাথে রোজিনার বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন রেজাউল ও রোজিনার সাথে শুরু হয় মেবাইল ফোনে কথোপকথন, সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই কোনো এক ছুটির দিনে ফাতেমা এবং রেজাউল (প্রতারক চক্রের সদস্য) রেজাউলকে নিয়ে বেড়াতে যান রোজিনার বাসায়।
রোজিনা তখন ফাতেমাদের আপ্যায়নে ব্যাস্ত হয়ে দোকানে যান নাস্তার জোগাড় করতে, সেই সুযোগে রোজিনার ব্যাগে থাকা স্বর্ণের গহনা,টাকা সহ রোজিনার ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যান রেজাউল, দোকান থেকে ফিরে রেজাউল এর কথা জিজ্ঞেস করলে আমতা আমতা ভাবে ফাতেমা বলেন যে জরুরী একটা ফোন আসায় রেজাউল বাহিরে চলে গেছে। ফাতেমাও তখন তড়িঘড়ি করে চলে যায়।
পরে রোজিনা মোবাইল ফোন খুঁজতে গিয়ে তার ব্যাগ খুঁজে না পেয়ে ফাতেমা ও রেজাউলকে খোঁজাখুঁজি করলেও তাদেরকে আর খুঁজে পায় না।
কিছুদিন পরে রেজাউল, রোজিনার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বলেন যে, তুমি আমাকে কতটা ভালবসো আর আমার খোঁজ করো কি না এটা বোঝার জন্য তোমার জিনিসগুলো নিয়ে আসছি কিন্তু তুমি তোমার ঠিকানা দিলে তোমার জিনিসগুলো আমি কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দিবো এর পরে আর ফাতেমা কিংবা রেজাউল এর সাথে আর যোগাযোগ করতে পারেনি রোজিনা।
এ বিষয়ে রোজিনা বলেন পরিবারের লোকদের কাছে বা থানায় গিয়েও লোকলজ্জার ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলতে পারিনাই আর ওদেরকেও খুঁজে পাইনি কিন্তু আমার ঘাম ঝড়ানো আর রক্ত পানি করে অর্জন করা জিনিসগুলো ফিরে পেতে গণমাধ্যম কর্মিদের ও দেশের সচেতন নাগরিকদের সাহায্য কামনা করছি।