ঢাকা, ১৫ নভেম্বর: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ও সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম রায়।
চব্বিশের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুতি পর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও চোরাগোপ্তা কর্মসূচির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। রায়কে কেন্দ্র করে দলটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর বিভিন্ন স্থানে ককটেল হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতা বাড়তে পারে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে বিপুল অর্থ ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, “আগামী দিনগুলোতে এমন আরও কর্মসূচি আসবে। আগুন, বাস পোড়ানো—এসব যেন আমাদের সমাজের নিয়তির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “আওয়ামী লীগের হাতে অর্থ ও অস্ত্র রয়েছে। প্রায় আট হাজার নেতাকর্মীর কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে। এগুলোর ব্যবহার হবে এমন নয়, তবে শঙ্কা থেকেই যায়।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের মতো এবারও দলটি সহিংস কর্মসূচির পথেই হাঁটছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়।
ড. সিদ্দিকুর রহমান খান আরও বলেন, “রাজপথে পিটিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা আমরা দেখেছি। সাম্প্রতিক তৎপরতা শঙ্কা বাড়াচ্ছে। এই অপতৎপরতা প্রতিহত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।”
এদিকে শেখ হাসিনার মামলার পাশাপাশি আরও কয়েকটি মামলার বিচারও শেষ পর্যায়ে। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আলতাফ পারভেজ বলেন, “আগামীতে আরও কর্মসূচি দেবে আওয়ামী লীগ। অন্য দলগুলো তা প্রতিহত করবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতাও বাড়তে পারে।”
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং দলের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। একই নিষেধাজ্ঞা পড়ে তাদের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগও।