যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা: কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

Date: 2025-11-15
news-banner

ক্যারিবিয়ান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েনের পর নতুন করে তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা। সামরিক শক্তির দিক দিয়ে ভেনেজুয়েলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও, কেন এমন বিশাল সামরিক মহড়া? বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো হয়েছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অন্তত ২০টি নৌযানে হামলার পর অনেকেই বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন।

সিএসআইএস উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, ফোর্ড শ্রেণির এ রণতরী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য উপযোগী নয়; এটি মূলত স্থল বা সমুদ্রভিত্তিক শত্রু আক্রমণ ও প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয়। তার মতে, মাদকবিরোধী অপারেশন শুধু একটি বাহানা; মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা বলছে, মার্কিন বাহিনীর এমন মোতায়েন তাদের জন্য সরাসরি হুমকি। মার্কিন আক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা না থাকলেও দেশজুড়ে মহড়া, বেসামরিকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ নানা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মাদুরো প্রশাসন।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কার্লোস পিনা বলেন, “কোনো সরাসরি সামরিক হামলার ইঙ্গিত এখনো নেই। বরং কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে মাদুরোকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।” তার মতে, সময় যত বাড়বে, ততই ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বাড়বে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটারের সংখ্যা।

বিশ্লেষকদের অভিমত—মাদুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাই জনগণকে প্রস্তুত রাখা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখাই এখন তার প্রধান কৌশল।

Leave Your Comments