কেন ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারছেন না?

Date: 2025-11-14
news-banner

মস্কো-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সপ্তাহে ব্যাপক উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল সংস্থা রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া তাদের নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত বুরেভেস্টনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও পোসাইডন আন্ডারওয়াটার ড্রোন পরীক্ষা করেছে। দুই পক্ষই প্রয়োজনে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে।


ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ এবং পুতিনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ চলছে, আর দুই দেশ হুমকি বিনিময়ে ব্যস্ত। ট্রাম্প ও পুতিনের আলাস্কা বৈঠক বা ফোনালাপে কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বহুবার মস্কো গিয়েছেন, কিন্তু কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি ও নীতি ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো সমঝোতা হয়নি।


রাশিয়ার দাবি স্পষ্ট—ইউক্রেনকে দখলকৃত পাঁচ অঞ্চল স্বীকার করতে হবে, নিরপেক্ষ থাকতে হবে, সেনাবাহিনী কমাতে হবে, রুশ ভাষার সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। কিন্তু ওয়াশিংটন ও কিয়েভের কাছে এসব গ্রহণযোগ্য নয়। ইউক্রেন চায় আগে যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ক ভিন্নতাই মূল বাধা। ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘ভূমি বিনিময়’ হিসেবে দেখছেন, কিন্তু রাশিয়ার জন্য এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়। ইউক্রেন চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো থেকে শক্ত নিরাপত্তা, রাশিয়া চায় সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে ইউক্রেন দুর্বল হোক।


এছাড়া, বুদাপেস্টে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। উভয় পক্ষ পুনরায় একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার ইউক্রেন ও ইউরোপীয় প্রচেষ্টা সামান্য সফল হলেও আলাস্কা বৈঠকের তিন মাস পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং উত্তেজনা বেড়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও রাশিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা এটিকে আরও জটিল করছে।


সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে—ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হলো ভূখণ্ডের বিষয়ে সহমতহীনতা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অভাব এবং দুই পক্ষের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব। শান্তির বদলে এখন দুই পরাশক্তি শক্তি প্রদর্শনের লড়াই চালাচ্ছে।

Leave Your Comments