৪১৬ বছরের আঙুর গাছ পেল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতি

Date: 2025-11-13
news-banner

তিব্বতের ঝোবা গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা ৪১৬ বছরের প্রাচীন আঙুর লতাটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত বুনো আঙুর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।


তিব্বতের পূর্বাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম ঝোবায় একটি বিস্ময়কর আঙুর গাছ দাঁড়িয়ে আছে, যা ৪১৬ বছর ধরে প্রকৃতির ঝড়-তুফান, শীত ও তাপ সহ্য করে টিকে আছে। পাহাড়ি মাটিতে এর শিকড় গভীরভাবে গেঁথে আছে এবং ডালপালা যেন সময়ের নিজস্ব বলয়ে জড়িয়ে আছে।

চীনের বিজ্ঞানীরা রিং অ্যানালাইসিস এবং শারীরিক পরিমাপের মাধ্যমে গাছটির বয়স নির্ধারণ করেছেন। এর উচ্চতা প্রায় ৮ মিটার, গোড়ার পরিধি ২০৯ সেন্টিমিটার এবং কাণ্ডের ব্যাস ৬৭ সেন্টিমিটার। এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন আঙুর হিসেবে স্লোভেনিয়ার মারিবরের দ্য ওল্ড ভাইনকে ধরা হতো, যার বয়স ৩৫০–৪০০ বছরের মধ্যে।

চীনা কৃষি বিজ্ঞান একাডেমির ফলগাছ গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. ওয়াং হাইবো বলেন, “দুই হাজার চারশ মিটার উচ্চতায় ৪১৬ বছরের এই বুনো আঙুরলতা প্রকৃতির ধৈর্য ও জীবনের স্থিতিস্থাপকতার এক অনন্য নিদর্শন। এটি শুধু বিশ্বরেকর্ড নয়, সময়ের জীবন্ত দলিল।”

সাধারণত চাষ করা আঙুরগাছ ৫০ বছরের বেশি বাঁচে না। তবে ঝোগাং কাউন্টিতে এখনো ৬৪টি আঙুরলতা ১০০ বছরের বেশি বয়সে টিকে আছে। এই অঞ্চলের মদ প্রস্তুতির ঐতিহ্য হাজার বছরের বেশি পুরনো। ২০০৪ সালে ঝোগাংকে ‘চায়নার বুনো লাল আঙুরের জন্মভূমি’ ঘোষণা করা হয় এবং দুই দশক পর সেই নাম আবারও গিনেস রেকর্ডে স্থান পেয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আঙুরলতার বৃত্ত বা রিং কেবল বয়স নয়, বরং জলবায়ুর ইতিহাসও সংরক্ষণ করে। প্রতিটি রেখা উপত্যকার জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রকৃতির গল্প বলে। হয়তো এই পাহাড়ি অঞ্চলের মাটির গভীরে আরও প্রাচীন আঙুর লতা ঘুমিয়ে আছে, যা একদিন নতুন করে জেগে উঠবে।

Leave Your Comments