ট্রাম্পের ‘পারফিউম ও স্ত্রী প্রশ্ন’: হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার সঙ্গে মজার মুহূর্ত

Date: 2025-11-13
news-banner

গত সোমবার (১০ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার বৈঠকে একটি অভিনব ও ভাইরাল মুহূর্ত ঘটে। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব পারফিউম উপহার হিসেবে আল-শারার গায়ে ছিটিয়ে দেন এবং হেসে বলেন, “এটাই সেরা ঘ্রাণ, আরেকটা তোমার স্ত্রীর জন্য।” পরে মজার ছলে প্রশ্ন করেন, “কয়জন স্ত্রী তোমার?”

আল-শারা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেন, “অবশ্যই একজনই।” এই উত্তরে উপস্থিত সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন। ট্রাম্প আবার বলেন, “তুমি জানো না, ভবিষ্যতে কী হবে।”

ভাইরাল ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে ‘অস্বস্তিকর রসিকতা’ বলেছে, আবার কেউ ‘ট্রাম্পীয় কূটনীতির হাস্যরস’ হিসেবে দেখেছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল সিরিয়ায় আসাদ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও আইএসবিরোধী অভিযান। তবে ‘পারফিউম পর্ব’ আলোচনার চেয়ে বেশি মনোযোগ পেয়েছে।

আহমাদ আল-শারা, যিনি আগে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতা ছিলেন এবং পূর্বে ‘আবু মুহাম্মদ আল-জোলানি’ নামে পরিচিত, এখন সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট। অতীতের জিহাদি পরিচয় থেকে বের হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা করছেন।

বৈঠকে সিরিয়ার পুনর্গঠন, শরণার্থী প্রত্যাবর্তন এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর ব্যবসায়িক ধাঁচের কূটনীতিতে ব্যক্তিগত মন্তব্য ও উপহার বিনিময় করে বৈঠককে প্রাণবন্ত করেছেন। তিনি উপহার হিসেবে ‘ট্রাম্প ফ্র্যাগ্রেন্স’ পারফিউম দিয়েছেন।

ইসলামিক সংস্কৃতিতে অ্যালকোহলযুক্ত সুগন্ধি বিতর্কিত হলেও, আল-শারা উপহারটি গ্রহণ করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশের পর নেটিজেনরা নানা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন; কেউ এটিকে কূটনৈতিক সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন বলেছে, আবার কেউ এটিকে সম্পর্ক গঠনের ‘মানবিক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখেছে।

এই সফর ছিল সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়—স্বাধীনতার পর প্রথমবার কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে সফর করেছেন।

Leave Your Comments