কাঁঠালিয়ার আওয়ামীলীগের ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে সেবা পেতে দূর্ভোগ চরমে।

Date: 2025-03-10
news-banner


নিজস্ব প্রতিনিধি।।

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন তিন মাস ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে পরিষদের প্রশাসনিক ও 
অন্যান্যা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের । 

ছেলে আজিজুল ইসলামের জন্মনিবন্ধন করতে ইউনিয়ন পরিষদে একমাস ধরে ঘুরছেন দক্ষিন কৈখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন। জন্ম ও ওয়ারিশ সনদ না পেয়ে বেশ কয়েকবার এসে ফিরে যেতে হয়েছে একই এলাকার জাকির হোসেন খান , মিজানুর রহমান হাওলাদারকে। সেন্টারহাটের রিয়াজুল হক , বান্ধাঘাটার আ. সালাম ও বিনাপানি এলাকার সিদ্দিক সরদারের একই অভিযোগ করেন তারা। 

ইউপি সদস্য সামসুল আলম বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা-মামলার প্রধান আসামী। এ মামলার ৫নম্বর আসামি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি সদস্য সৈয়দ আবদুল কাইয়ুম, দুলাল শরীফ, সেলিম তালুকদার, সিরাজুল ইসলামও এ মামলার আসামি। তারা আসামি হয়েও পরিষদে আসছেন, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরপরও সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন পরিষদে নিয়মিত আসছেন না । তিনি গুরুত্বপূর্ন নাগরিক সনদ , ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জন্মমৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র স্বাক্ষর না করায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারন মানুষ। ইউপি সচিব সফিকুল ইসলাম পাটিখালঘাটা ও শৌলজালিয়া দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। দুই এলাকায় দায়িত্ব পালন করায় সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছে না । প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মসনদ, ওয়ারিশ সনদপত্রে স্বাক্ষর করতে পারলেও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথিতে সই দেওয়ার এখতিয়ার ইেন তাঁর। ফলে উন্নয়নমূলক কাজ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী। চেয়ারম্যান লিখিতভাবে তাকে দায়িত্ব না দেওয়ায় এ আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কাঁঠালিয়া উপজেলার অন্য ৫টি ইউনিয়ন চেচড়ীরামপুরা , পাটিখালঘাটা, আমুয়া, কাঁঠালিয়া সদরসহ আওরাবুনিয়া ইউনিয়নেও একই অবস্থা বিরাজমান।

ইউপি সচিব মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় আর্থিক ক্ষমতা ছাড়া সব কার্যক্রম একজন উদ্যোক্তা নিয়ে সামলাতে হচ্ছে। এছাড়া দুই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে ।
প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান , চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে । গ্রেপ্তার এড়াতে এবং নিরাপত্তার কারণে তিনি পরিষদে আসতে পারছেন না । তিনি না এলেও নাগরিক সনদ, জন্মমৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়মমাফিক চলছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কিছুটা দুর্ভোগ হচ্ছে। বিষয়টির ব্যাপারে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments