সাংবাদিকদের নিজেদের লোক না বানাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। সভায় সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে বিজেসি ট্রাস্টি ও যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের উন্নয়নে তাত্ত্বিক এবং বাস্তবিক- দুই আলোচনাই জরুরি। এরমধ্যে একটা বাস্তবিক কথা হলো, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই সাংবাদিকদের নিজের করে নিতে চায়। বলে, ওমুক হাউজে আমাদের ওমুক লোক আছে। মানে বোঝান, যারা বিভিন্ন দলের নিউজ বা বিট কাভার করেন। বক্তব্য রাখছেন বিজেসির ট্রাস্টি ও যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ
ফাহিম আহমেদ বলেন, আমরা কেউ আপনাদের লোক হতে চাই না। আমরা ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের লোক হতে চাই না। বিজেসির আরেক ট্রাস্টি তালাত মামুন বলেন, দুর্বল গণমাধ্যম দুর্বল গণতন্ত্রের জন্ম দেয়। গণমাধ্যমকে অনেকভাবে চেপে ধরার চেষ্টা করা হয়। বহুমুখী চ্যালেঞ্জ আছে, যারা ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাবে, তারা যদি গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়টি নিশ্চয়তা দেন, তবে ভবিষ্যতে সুস্থ-সবল গণমাধ্যম আমরা পাবো।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৩১ দফায় গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে। সেখানে গণমাধ্যম সংস্কারে কমিশন গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। জনগণের ভোটে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ হলে গণমাধ্যম সংস্কারে বিএনপি কাজ করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পন। আয়নার যেভাবে নিজের চেহারা হুবহু দেখা যায়, সেভাবে সমাজের চেহারা হুবহু দেখাতে হবে। সাংবাদিকদের বাংলাদেশপন্থি হওয়ার আহ্বান জানান মাসুদ।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, গত ১৬ বছরে সরকার বিভিন্নজনকে খুশি করার জন্য একেকজনকে একেকটা চ্যানেল, দিয়েছিল। অনেক চ্যানেলকেই সাংবাদিকদের বেতন দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। পত্রিকার ক্ষেত্রেও অনেক পত্রিকা রয়েছে যেসব ঠিকমতো ছাপানোই হচ্ছে না। আমরা ভেবেছিলাম এই সরকার এগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করবে করবে। কিন্তু তা করেনি। বাংলাদেশের মতো দেশে মিডিয়াকে শিল্পগোষ্ঠীর হাতে দিয়ে দেয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যম এবং সাংবাদিকতার সংকট বহুমুখী। সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা নিজেরা যেমন ভিকটিম হন। তারা ভিকটিম তৈরিও করেন। এ কারণে গত ১৫ বছরে সাংবাদিকতার ভূমিকাকে সরলরৈখিকভাবে ব্যাখ্যা করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদের গড়নে যেমন সাংবাদিকতার একাংশের ভূমিকা আছে। আবার তা থেকে উত্তরণেও সাংবাদিকতার একাংশের ভূমিকা আছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।