দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি: বরিশালে ইপিজেড, বরগুনা-পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল

Date: 2026-06-15
news-banner

আবু জাফর বিশ্বাস,  বরিশালঃ 

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে বরিশালে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং বরগুনা ও পিরোজপুরে পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের আলোচনায় বরিশাল, বরগুনা ও পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকরা নতুন শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পরবর্তীতে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে সম্ভাবনাময় ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলো বাছাই করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বর্তমানে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অঞ্চলে কর ও শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক তার প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, বরিশালে ইপিজেড স্থাপিত হলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে। নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। এছাড়া ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অন্যদিকে বরগুনার জেলা প্রশাসক উপকূলীয় এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, পায়রা বন্দরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মৎস্য, কৃষি, সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক সদর উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে নৌ-সংযোগ থাকায় এখানে শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। কাঁচামাল ও শ্রমশক্তির সহজলভ্যতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। বাড়বে রপ্তানি আয়, তৈরি হবে নতুন শিল্পভিত্তি এবং সৃষ্টি হবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।

Leave Your Comments