ওজন কমানোর ওষুধের বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে মার্কেট ভ্যালু ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে ইতিহাস গড়ল মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'এলি লিলি'। টেক জায়ান্টদের দাপটের জায়গায় এবার প্রথমবারের মতো প্রবেশ করলো একটি ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
চলতি বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একসময় যাকে সীমিত পরিসরের বাজার হিসেবে দেখা হতো, সেই স্থূলতা-নিরাময় চিকিৎসা এখন বিশ্ব স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে লাভজনক সেগমেন্টগুলোর একটি।
স্থূলতা চিকিৎসার বাজারে নোভো নরডিস্ক ছিল প্রথম সারিতে। তবে এলি লিলির ওষুধ মাউনজারো ও জেপবাউন্ড দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড়িয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) কোম্পানির শেয়ার ১.৩ শতাংশ বেড়ে সর্বোচ্চ ১,০৫৭.৭০ ডলারে দাঁড়ায়।
এলি লিলির এখনকার বাজারমূল্য বড় ফার্মার মধ্যে অন্যতম বেশি—আগামী ১২ মাসে প্রত্যাশিত আয়ের প্রায় ৫০ গুণ, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজার চাহিদার শক্তিমাত্রা তুলে ধরে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে জেপবাউন্ড বাজারে আসার পর থেকে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৭৫ শতাংশেরও বেশি। একই সময়ে 'এসঅ্যান্ডপি ৫০০' বেড়েছে ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি।
সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকে প্রতিষ্ঠানটির স্থূলতা ও ডায়াবেটিস–সম্পর্কিত ওষুধের সম্মিলিত বিক্রি দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট আয়ের (১৭.৬ বিলিয়ন ডলার) অর্ধেকেরও বেশি।
ওয়াল স্ট্রিটের ধারণা, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ওজন কমানোর ওষুধের বাজার ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
এর বেশির ভাগ বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে এলি লিলি ও নোভো নরডিস্ক।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন এলি লিলির নতুন মৌখিক স্থূলতা-বিরোধী ওষুধ অরফোরগ্লিপ্রন–এর দিকে, যা আগামী বছর শুরুর দিকেই অনুমোদন পাওয়ার কথা।
সম্প্রতি স্থূলতা-বিরোধী ওষুধের দাম কমাতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে এলি লিলির চুক্তি এবং উৎপাদন বাড়ানোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা তাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।