রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ২৮ দফা প্রস্তাব ঘিরে চলছে আলোচনা-বিশ্লেষণ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রস্তাবটির নানা খুঁটিনাটি তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক বেশকিছু গণমাধ্যম। যেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কাছে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে ইউক্রেনকে। দেশটিতে মোতায়েন করা যাবে না ন্যাটো সেনাদের।
মস্কো ইতিবাচক হলেও ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে নাখোশ কিয়েভ।
মূলত, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়াসহ দেশটির বেশকয়েকটি শহরে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ক্রমেই ইউক্রেনের একের পর এক শহর-গ্রাম দখলে নিচ্ছে ক্রেমলিন।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ২৮ দফা প্রস্তাব ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদিমির জেলেনস্কির সামনে উপস্থাপণ করেছে হোয়াইট হাউজ। বলা হচ্ছে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলের মধ্যকার গত ৩০ বছরের সব ধরনের জটিলতা নিষ্পত্তি হবে। নিশ্চিত করা হবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব।
তবে, এ প্রস্তাব মেনে নিলে রাশিয়ার কাছে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাবে ইউক্রেন। দু'দেশের মাঝে বাফার জোন হবে খেরসন ও জাপোরিজঝিয়া অঞ্চল।
এই পাঁচ অঞ্চলের বাইরে দখলে নেয়া ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দেবে রাশিয়া।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্যসংখ্যা ৬ লাখে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এমনকি দেশটিতে মোতায়েন করা যাবে না ন্যাটো সেনাদের। তবে, ইউক্রেনের সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করবে পেন্টাগন। চুক্তি ভঙ্গ করলে যুক্তরাষ্ট্রের এই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হারাবে ইউক্রেন। এরপরও রাশিয়া হামলা চালালে সমন্বিতভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন। সেইসাথে নেমে আসবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার খড়গও।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের এই ২৮ দফা প্রস্তাবে মোটেই খুশি নন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের অভিযোগ, প্রস্তাবে মস্কোর দাবিগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব শান্তি ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন পুতিন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন এক সময় পার করছি আমরা। একদিকে মর্যাদা হারানো ঝুঁকি, অপরদিকে প্রধান এক মিত্রের সাথে সম্পর্ক নষ্টের আশংকা। হয় এই কঠিন ২৮ দফা মেনে নিতে হবে, নয়তো সমানে আরও বড় ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।
এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আমার মনে হয়, আমেরিকার এই প্রস্তাব শান্তিচুক্তির ভিত্তি স্থাপণে ভূমিকা রাখবে। তবে এটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এখনও ইউক্রেনের সম্মতি আদায় করতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত নয়। তাই, এখনই এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইউক্রেনের আরেক মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন।