আজ, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তিনি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার জন্য আদেশ জারির বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা করবেন।
এর আগে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক, যেখানে জুলাই আদেশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এই আদেশের ভিত্তিতে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরোধ মেটিয়ে আদেশে ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
রাজনীতির মাঠ এখনো সরগরম। বিএনপি ও জামায়াতসহ ৮টি ইসলামি দল রোববার পর্যন্ত আদেশ বাস্তবায়নে আলটিমেটাম দিয়েছে। সরকার তাদের দাবি মানার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। সিদ্ধান্তে গণভোট এবং সংসদ নির্বাচনের একই দিনে আয়োজন, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে, এবং নির্বাচনের ব্যালটে একাধিক প্রশ্ন রাখার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২৮ অক্টোবর সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেয়। এতে বলা হয়, সরকার একটি আদেশ জারি করবে। তবে দলগুলো নিজেদের মধ্যে একমত না হওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদ প্রধান উপদেষ্টার ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার রেখেছে। অতীতে উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৮৪টি প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে এসেছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে তিন ভাগে: ৯টি নির্বাহী আদেশ, ২৭টি অধ্যাদেশ এবং ৪৮টি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গণভোটের মাধ্যমে। পরবর্তী সংসদ প্রথম অধিবেশনের ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদের প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।
ড. ইউনূস এই বছরের মধ্যে ষষ্ঠবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট প্রথমবার, ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার, ২৫ মার্চ এবং ৬ জুন আরও দুইবার ভাষণ দিয়েছেন। এছাড়াও ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে জাতীয় উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন।