প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ঢাকা-যশোর ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পে ব্যয়-লুটপাট এবং পরিকল্পনার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা জানান, এই দুটি রুটে দিনে মাত্র সাতটি ট্রেন চলছে, অথচ প্রকল্পে দিনের ভিত্তিতে ২০০টি ট্রেন চলার কথা ছিল।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রুট দুটি বছরে মাত্র ১১৪ কোটি টাকা আয় করছে, অথচ ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজন ১৬৫০ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ সমীক্ষা করা হয়নি, বরং সাবেক সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্প দুটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষভাবে কক্সবাজার রুটে নির্মিত আইকন রেলওয়ে স্টেশনের নির্মাণে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা খরচ হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহারযোগ্য হয়নি। স্টেশনে আধুনিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিটেইল শপসহ অন্যান্য অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ফাঁকা ও অযত্নে পড়ে আছে।
তদুপরি, ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশন স্টেশন তিনতলা হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্প পরিকল্পনায় তা প্রয়োজন ছিল না। রেলপথের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের সময় পর্যাপ্ত রোলিংস্টক (ইঞ্জিন-কোচসহ সরঞ্জাম) সংগ্রহ করা হয়নি, ফলে ট্রেন পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম সামছুল হক বলেন, “প্রকল্পগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিক এবং সুফল পাওয়া যাবে না। যারা এগুলোর সঙ্গে জড়িত হয়েছে, তারা লাভবান হয়েছে, অথচ সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।”
রেলপথ উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “বর্তমান সরকার কিছু প্রকল্পে ব্যয় কমিয়েছে। তবে রোলিংস্টক স্বল্পতার কারণে দ্রুত ট্রেন পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ যোগ করা হবে।”