ভয়াল ১২ নভেম্বর: অর্ধশতাব্দী পরও উপকূলবাসীর বেদনার স্মৃতি

Date: 2025-11-12
news-banner

 আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল:


আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর, যা বাংলাদেশের উপকূলবাসীর ইতিহাসে এক স্মরণীয় শোকের দিন। ১৯৭০ সালে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘হেরিকেন’ এবং প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস এক রাতেই তছনছ করে দেয় উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারান, আর আড়াই লাখের বেশি নিখোঁজ হন।

সেদিন উপকূলের ৭১০ কিলোমিটারজুড়ে মৃত্যু ও ধ্বংসের ছাপ আজও বিশ্বের ইতিহাসে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে স্মরণীয়। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের অবহেলায় মার্কিন উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তা সময়মতো জনগণকে পৌঁছায়নি, নিরাপদ আশ্রয়ও নেয়া হয়নি। ফলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নভেম্বর এলেই উপকূলজুড়ে ফিরে আসে সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি। বর্তমানেও মানুষ আতঙ্কে কাঁপে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’, ২০১৯ সালের ‘বুলবুল’ এবং ২০২০ সালের ‘আম্পান’ যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয় সেই ১২ নভেম্বরের দুঃসহ স্মৃতি।

উপকূলের দুই কোটি মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই বাঁচছেন। গত দুই শতাব্দীতে উপকূলভাগে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৫ লাখ মানুষ, আর ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১০ লাখ কোটি টাকা। যদিও বর্তমানে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কারণে প্রাণহানি অনেকটা কমে এসেছে, প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও আশ্রয় ব্যবস্থায় এখনো রয়েছে বড় ঘাটতি। প্রায় ৪,৫০০ আশ্রয়কেন্দ্রে মাত্র ৫ লাখ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন—বাকি উপকূলবাসী এখনও ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর উপলক্ষে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Leave Your Comments