ইসলামি ঐক্যের আহ্বান হেফাজত আমিরের: ‘সহিহ আকিদার দলগুলো এক হোক’

Date: 2025-11-08
news-banner

সহিহ আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত সব ইসলামি দল যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তবে সেটিই সর্বোত্তম হবে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কওমি মাদ্রাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,

“আমি অতীতেও বহুবার ইসলামি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছি। সহিহ আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত সব ইসলামি দল ঐক্যবদ্ধ হলে সেটিই সর্বোত্তম হবে। তবে দুঃখজনকভাবে এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। ইসলাম ও ইসলামের মূলধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়— এমন কোনো সিদ্ধান্ত কেউ যেন না নেয়।”

তিনি আরও বলেন,

“বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপনের চুক্তি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধের জন্য এক অশনি সংকেত। এটি ইসলাম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।”

হেফাজত আমির আহ্বান জানান, দেশের ইসলামি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দলগুলো যেন আকিদা ও মানহাজের একত্ব বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন,

“যারা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে অসম্মানজনক ধারণা পোষণ করে, তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত নয়— তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।”

বক্তৃতায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন,

“কওমি মাদ্রাসাগুলো শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ইসলামী সভ্যতা, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার ধারক-বাহক। তাই এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পাঠ্যসূচির উন্নয়ন ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষায় আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”

এ সময় তিনি জনাব আবুল আলা মওদূদীর চিন্তাধারাকে আহলে সুন্নতের মূল আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন এবং ইসলামী ঐতিহ্যবাহী ব্যাখ্যা থেকে বিচ্যুত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা আবদুল আউয়াল। প্রধান অতিথি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম আল্লামা ইলিয়াস গুম্মান, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, উজানীর পীর মাওলানা মাহবুবে এলাহী, মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদমাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী প্রমুখ।

Leave Your Comments