ক্ষত পঁচে দুর্গন্ধ, কাউনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পরিচয়হীন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী

Date: 2026-06-16
news-banner

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :  

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক পরিচয়হীন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক ও নার্সদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোগীটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় নাম-পরিচয়হীন ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হলেও মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন না এবং চিকিৎসকদের সহযোগিতাও করছেন না।

ফলে ব্যান্ডেজ করা হাতের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্ষতস্থান পঁচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা একাধিকবার তাকে বেডে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি কাউকে কাছে ভিড়তে দিচ্ছেন না। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোও সম্ভব হচ্ছে না।

কাউনিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মীরবাগ বুড়ালের ব্রিজ এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই নারীকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ভারসাম্যহীন ৫০উর্ধ মহিলা রোগীটির কাছে কেউ গেলে তিনি বারবার মৃত্যুর ইচ্ছা প্রকাশ করে শুধু বিষ চাচ্ছেন। নাম পরিচয় জানতে চাইলে করলে কিছু বলেন না।

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসান হাবিব জানান, “রোগীর হাতের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তার কাছে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু রোগী কাউকেই কাছে যেতে দিচ্ছেন না। কেউ যদি তাকে চিনে থাকেন, তাহলে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।”

কাউনিয়া প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে অসহায় নারীর জন্য কাপড় কিনে দেয়া হয়েছে। পরিচয়হীন এই অসহায় নারী বর্তমানে হাসপাতালের করিডোরে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের খুঁজে বের করা এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Leave Your Comments