ইস্তাম্বুল, তুরস্ক — গাজায় জাতি হত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।
গতকাল শুক্রবার ইস্তাম্বুলের প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পরোয়ানা জারির তালিকায় থাকা ৩৭ জনের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্ৎজ, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির, এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে জাতি হত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।” এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে হামলায় ৫০০ জন নিহত, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসা সামগ্রী ধ্বংস এবং গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ মানবতার পরিপন্থী।
তুরস্কের ফিলিস্তিন ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, যা গাজায় স্থাপিত হয়েছিল, সেটিতেও গত মার্চে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানানো হয়।
ইসরায়েল তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে “প্রচারণার কৌশল” বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে লিখেছেন, “ইসরায়েল ঘৃণাভরে এই প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করছে।”
অন্যদিকে, হামাস তুরস্কের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, “এই পদক্ষেপ তুর্কি জনগণ ও তাদের নেতাদের ন্যায্য ও মানবিক অবস্থানের প্রতিফলন।”
প্রায় এক বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পরোয়ানা জারি করেছিল। পাশাপাশি, দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জাতি হত্যার অভিযোগে মামলা করেছিল, যেখানে তুরস্ক পরবর্তীতে যোগ দেয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৮৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।