মোঃআলামিন হোসেন তাড়াশ উপজেলা, প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সগুনা ইউনিয়নের হেমনগর গ্রাম থেকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি তাড়াশ উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তাড়াশ থানার চৌকস অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো: জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলেন হেমনগর গ্রামের মো: আব্দুল করিম (৬০), মো: শাহ আলম (৪০), নুরুজ্জামান (৪৫), নুরুল আমিন (৪১), রুহুল আমিন (৪২), বাটুল হোসেন (৩৮), হাবিবুল্লাহ (৩৫), আরিফুল ইসলাম (৩২) এবং স্বপন আলী (৩৬)। এরা সবাই একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে সগুনা ইউনিয়নের হেমনগর গ্রামের উল্লিখিত আসামীদের সঙ্গে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের আশিক উল্লার ১৮ শতাংশ জমি নিয়ে এক ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে মামলার বাদী আশিক উল্লা গুরুতর জখম হন এবং তাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। সুস্থ হয়ে তিনি সিরাজগঞ্জ ফৌজদারী আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার পর, বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। আদালতের পেশকার আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, দণ্ডাদেশ ঘোষণার পর আসামীরা পলাতক ছিলেন, যার ফলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে।
তাড়াশ থানার ওসি জিয়াউর রহমান আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের অবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
একই পরিবারের এতজন সদস্যের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও গ্রেফতারের ঘটনা তাড়াশে বিরল। এই ঘটনা সমাজে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ভয়াবহতা এবং তার পরিণাম সম্পর্কে নতুন করে ভাবনা তৈরি করেছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।