যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন সচিব শন ডাফি জানিয়েছেন, ফেডারেল সরকারের অচলাবস্থা (শাটডাউন) চলতে থাকলে আগামী শুক্রবার থেকে দেশের ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে ১০ শতাংশ ফ্লাইট কমানো হবে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডাফি বলেন, “এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ওপর চাপ কমানো।”
চলমান শাটডাউন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ—৩৬ দিনে পা দিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে ৩৫ দিন স্থায়ী শাটডাউন ছিল। বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং ৫০ হাজার টিএসএ (TSA) কর্মী বিনা বেতনে কাজ করছেন। এতে কর্মীসংকট ও বিলম্ব মারাত্মক আকার নিয়েছে, বিমানবন্দরে লম্বা লাইন এবং নিরাপত্তা তল্লাশিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
সরকার ৪০টি বিমানবন্দরের নাম প্রকাশ করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ডালাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি ব্যস্ততম বিমানবন্দর এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষণ সংস্থা সিরিয়াম (Cirium) জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দৈনিক প্রায় ১,৮০০ ফ্লাইট ও ২ লাখ ৬৮ হাজার আসন কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, শুক্রবারের পরও সংকট অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা’ নামের বাণিজ্যিক সংগঠন জানায়, তারা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন পরিকল্পনার প্রভাব বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে প্রভাব কমাতে সচেষ্ট থাকবে।
শিল্পখাতের এক সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় এফএএ বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে, যেখানে ফ্লাইট কমানোর প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, শাটডাউন শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ যাত্রী ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের শিকার হয়েছেন।
ডাফি আরও জানান, শাটডাউন চলাকালে শুধু বিমান চলাচল নয়, মহাকাশ উৎক্ষেপণ কার্যক্রমও সীমিত রাখা হবে।