ভারত ও পাকিস্তান একই সময়ে বড় আকারের সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ভারতের ‘ত্রিশূল’ মহড়া গুজরাত ও রাজস্থানের পশ্চিম সীমান্তে তিন বাহিনীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিমান, নৌ ও স্থল বাহিনী একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী দুই সপ্তাহের জন্য স্যার ক্রিক এলাকা এবং আশেপাশের আকাশসীমাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করেছে।
একই সময় পাকিস্তানের নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়ায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যাভাল নেভিগেশন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, মহড়ায় ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় যুদ্ধজাহাজগুলো এবং সমুদ্রের নিচে গুলি চালানো হবে।
স্যার ক্রিক অঞ্চল ভারতের গুজরাত এবং পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মধ্যে অবস্থিত এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্র। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান এলাকায় সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে, যা উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও মহড়ার ভৌগোলিক এলাকা ওভারল্যাপ করছে, দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত থাকায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ হবে না। ভারতীয় মহড়ার উদ্দেশ্য মূলত তিন বাহিনীকে একত্রে কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেনাবাহিনীর সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
পাকিস্তানের মহড়া পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এক্সপো (PIM) এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৪৪টি দেশ থেকে ১৩৩ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। পাকিস্তান নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের সমুদ্রসীমানা রক্ষা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে মহড়া করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অপারেশন সিন্দুরের পর ভারত এই মহড়ার মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করছে, তবে সাম্প্রতিক এই মহড়া ‘রুটিন অনুশীলন’ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। এর সঙ্গে স্যার ক্রিক বিরোধের সরাসরি সম্পর্ক নেই।