৮০ ও ৯০-এর দশকের বলিউডে খলনায়কের চরিত্রে আলোচিত ছিলেন মহেশ আনন্দ। বড় পর্দায় শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী চরিত্রে দেখা গেলেও, ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন নিঃসঙ্গ। ৩০০-এরও বেশি সিনেমায় কাজ করা এই অভিনেতার জীবন প্রেম, বিয়ে ও একাকিত্বে ভরা ছিল।
মহেশ আনন্দ প্রথম আলোচনায় আসেন ‘শাহেনশাহ’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে অভিনয় করে। পরে ‘গুমরাহ’, ‘গঙ্গা যমুনা সরস্বতী’ ও ‘তুফান’-এ সঞ্জয় দত্ত এবং অন্যান্য তারকাদের সঙ্গে কাজ করে তিনি খলনায়কের চরিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও মহেশ আনন্দের ওঠানামা ছিল বড়। পাঁচটি বিয়ে এবং অন্তত এক ডজন প্রেমের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তিনি অস্থির জীবনযাপন করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী ছিলেন রীনা রায়ের বোন বরখা রায়। এরপর একাধিক বিয়ে এবং বিচ্ছেদের পর শেষ জীবনে তিনি রুশ নাগরিক লানা-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
জীবনের শেষ প্রান্তে অর্থকষ্ট ও একাকিত্বে ভুগতে থাকেন মহেশ। নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, “আমি ৩০০-এরও বেশি সিনেমায় কাজ করেছি, কিন্তু এখন পানির বোতল কেনারও টাকা নেই। পৃথিবীতে আমার কোনো বন্ধু নেই। খুব কষ্ট লাগে।”
অবশেষে ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, মুম্বাইয়ের নিজের ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় মহেশ আনন্দকে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তিনি মৃত্যুর তিন দিন আগে মারা গেছেন।
মহেশ আনন্দের জীবন, বড় পর্দার খলনায়ক থেকে একাকী ব্যক্তিত্বে রূপান্তর, বলিউডের ইতিহাসে একটি করুণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়।