ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের সমর্থকরা বিক্ষোভ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, এমনকি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এসব সহিংসতার সূচনা হয়।
প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৮ জেলায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এসব জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা।
মাদারীপুরে শিবচর উপজেলায় প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিতের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন তার অনুসারীরা।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে রেলপথ আটকে বিক্ষোভ করেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকরা।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থকরা মিছিল করেন।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে মনোনয়ন স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ঘোষিত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন না দেওয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনও বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে শ্রীনগরে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের অনুসারীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
অন্যদিকে নীলফামারী-১৫ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সমর্থকরা। তারা বলছেন, বিএনপির দুর্দিনে দলের হয়ে কাজ করা এই নেত্রীকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
রংপুর-৩ (সদর-মহানগর) আসনে রিটা রহমান মনোনয়ন না পেয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান। তিনি অভিযোগ করেন, "যাকে শহরের লোকেরা চাঁদাবাজ ও দখলদার বলেন, তার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।"
একইসঙ্গে কিছু এলাকায় সমঝোতার চেষ্টাও দেখা গেছে। বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পাওয়া রাজীব আহসান মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের বাসায় গিয়ে মিষ্টিমুখ করেন, দুজন একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।
মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর ও সিরাজদীখান) আসনে খসড়া তালিকায় বাদ পড়া তিন নেতা এক মঞ্চে ওঠেন। তাঁরা শ্রীনগরে বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় অংশ নেন।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, “সব অভিযোগ যাচাই করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা।