আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। দীর্ঘ ১৭ বছর ত্যাগী নেতা-কর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামে টিকে থাকা এই সংগঠন আজ মনোনয়ন নিয়ে গভীর বিভাজনের মুখে।
দলের একাংশের অভিযোগ—মনোনয়ন পেয়েছেন এমন প্রার্থী, যাকে গত ১৭ বছরে রাজপথে দেখেননি কেউ। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, বিএনপির রাজনীতি কি এখন ত্যাগ নয়, বেইমানির প্রতিযোগিতা?
এক সময় ঝালকাঠির রাজনীতিতে বিএনপি ছিল একটি জনভিত্তিক শক্তিশালী দল। শহর থেকে গ্রাম—প্রতিটি ইউনিয়নে ছিল দলীয় কর্মীদের সরব উপস্থিতি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা ও নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এখন মনোনয়ন বঞ্চনা ও অচেনা মুখদের অগ্রাধিকার পেয়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
এক ত্যাগী কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা আন্দোলনের সময় পাশে ছিল না, এখন তারাই প্রার্থী! আমরা গুলি-টিয়ারশেল খেয়েছি, অথচ এখন আমাদের মূল্যায়ন নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি যদি দ্রুত না কাটে, তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি সংগঠনগতভাবে বড় সংকটে পড়তে পারে। তারা বলছেন, দলীয় নেতৃত্বের এখনই উচিত স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে বসে ঐক্য পুনর্গঠন করা।
এদিকে, ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে বলেন, আল্লাহর অশেষ কৃপায় ও জনগণের ভালোবাসায় বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। এই মনোনয়ন আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি ঝালকাঠি ও নলছিটির মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। আমি চাই ঝালকাঠি-২ আসন হোক উন্নয়ন, ঐক্য ও গণমানুষের আস্থার প্রতীক।
তিনি আরও আহ্বান জানান, আসুন ঐক্যবদ্ধ হই — দল-মত নির্বিশেষে সবাই একসাথে কাজ করি। বিএনপি একটাই পরিবার, আমি আপনাদেরই মানুষ, জনগণের সেবক।
ঝালকাঠির রাজনীতি সবসময়ই ঐতিহ্যের ধারক। তবে এখন সেই ঐতিহ্য যেন বিভাজনের ভারে নুয়ে পড়ছে। প্রশ্ন জেগেছে—বিএনপি কি আবারও ঐক্যের পথে ফিরবে, নাকি হতাশাই হবে তাদের আগামী দিনের পরিচয়?