পর্ব-
২
আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
পুরান ঢাকার
হাজারীবাগ মৌজাস্থিত বিভিন্ন এলাকায় রাজউকের নিয়ম না মেনে বেশ কিছু বহুতল ভবন নির্মাণের
কাজ চলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একই শিরোনামে বার্তা বিচিত্রা পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে। ঐ প্রতিবেদনে রাজউকের নিয়ম না মানা নির্মাণাধীন যে ভবনের ছবি ছাপা
হয়েছিল, এবং আজকের প্রতিবেদনে যে ভবনের ছাবি ছাপা হয়েছে, অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই
উভয় ভবনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান একই ব্যক্তির মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটির নাম “Touch Holding (টাচ হোল্ডিং)।”
জানা গেছে,
টাচ হোল্ডিং নামক ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি রাজউকের নিয়ম না মেনে একাধিক বহুতল ভবন
নির্মাণ করে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বেশ কয়েকটি নির্মানাধীন
ভবন। এসব ভবন নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি রাজউকের নিয়ম-নীতির কোনোরকম তোয়াক্কা করছে না বলে
অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের কোনোটিতেই নির্মাণ
সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্র টাঙ্গানো নাই। ফ্ল্যাট বিক্রয়ের নিমিত্তে শুধুমাত্র কাল্পনিক ভবনের
ছবি, ভবনের নাম, ফ্ল্যাট সাইজ, প্রতিষ্ঠনের নাম ও দু’টি মুঠোফোন নম্বর সম্বলিত একটি
সাইনবোর্ড টাঙ্গানো রয়েছে। সেখানে নির্মাণাধীন ভবনের হোল্ডিংস নম্বর থাকলেও নির্মাণাধীন
প্রতিষ্ঠানের কোনো ঠিকানা উল্লেখ করা হয় নাই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উল্লেখিত
দু’টি নম্বরে কল দিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে
এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে কথা হয় রাজউকের পরিদর্শক (হাজারীবাগ মৌজা) শাহিনের সাথে। তিনি
বলেন, “আমরা আইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আইনগত ব্যবস্থা চলমান আছে।
পর্যায়ক্রমে আমাদের মোবাইল কোর্ট চলতেছে, মোবাইল কোর্টে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।” তিনি আরও বলেন, সকল আইগত ব্যবস্থা চলমান আছে। আমাদের ব্যাপকভাবে মোবাইল কোর্ট
চলতেছে এবং আমরা পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছি, চলমান আছে।”
“নকশার বাইরে
এক চুল ছাড় দেওয়া হবে না” রাজউকের এরূপ কড়া হুঁশিয়ারির পরেও এক শ্রেণির মুনাফালোভীদের
দৌরাত্ম্য যেন বেড়েই চলেছে। ভবন নির্মানের নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঝুকিপূর্ণ
কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সুযোগ সন্ধানীরা। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ
না করায় মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে রয়েছে এসব এলাকার জনজীবন। ভবন নির্মাণে সুনির্দিষ্ট
আইন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এর ফলে যেকোনো সময়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়।
বিল্ডিং কোড
না মানা অনিয়মে ভরা ‘টাচ হোল্ডিং এর মত এসব নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্মিত ভবনের
অকুপেন্সি সার্টিফিকেট আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল। উল্লেখ্য,
বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকা শহরে একটি ভবন নির্মাণের পর সেটি ব্যবহারের জন্য অকুপেন্সি
সার্টিফিকেট গ্রহন করা বাধ্যতামূলক। অকুপেন্সি সার্টিফিকেট হলো একটি আইনি দলিল যা প্রমান
করে যে, একটি ভবন নির্মাণ বিধিমালা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুসারে নির্মিত হয়েছে
এবং বসবাসের জন্য উপযুক্ত।
নিয়ম-নীতি
না মেনে গড়ে তোলা এসব ভবন ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কি ব্যবস্থা
গ্রহন করা হবে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা। আর এসব জানতে পাঠকদের চোখ রাখতে হবে বার্তা
বিচিত্রার পরের সংখ্যায়.. .।