রুমন জোয়ার্দ্দার জনি, বিশেষ প্রতিবেদকঃ
মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার তরা ইউনিয়নের সর্বত্র চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। সুদ গ্রহীতা সাধারণ মানুষ প্রতি মাসে সুদের টাকা দিতে নিঃস্ব হচ্ছে। মাস শেষে সুদের টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পায় সুদ। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে চলছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সুদের ব্যবসা। সমাজের মুখোশধারী রোজিনা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে মানুষের দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। খালি চেক, সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে চলছে অর্থলগ্নির রমরমা ব্যবসা। এর কারণে সমাজ এবং পরিবারে বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, অনেক পরিবার রোজিনার পালা সন্ত্রাস বাহিনী আর মামলার ভয়ে তরা গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ভূক্তভোগীদের মধ্যে ছিলেন কুরবানের মা (৬০) এবং খোকন (৫৫) তার পরিবারসহ তরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে রোজিনা এবং তার সন্ত্রাসবাহিনীর ভয়ে। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে রোজিনা আক্তার এবং তার মেয়ে ইশানা (২৩) সহ তার সন্ত্রাসবাহিনী দিয়ে ঋণগ্রস্থ পরিবারের ঘরের সকল মালামাল জোর করে বের করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ভূক্তভোগীরা হলেন আলম (৫০), রিনা (৫০) সহ আরও অনেকে।
রোজিনা শুধু সুদের মহাকালী মহাজনই নন,তিনি তরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, গোপনে যুবকদের বিভিন্ন বয়সী মেয়ে সাপ্লাইয়ার হিসেবে যুব সমাজে তার বেশ কদর রয়েছে।
রোজিনার স্বামী এমদাদুল হকের কোন ইনকাম রুজিরোজগার এর ব্যবস্থা নেই কিন্তু তার মাসিক সংসার খরচ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং তার মেয়ে ইশানা'র রাজকীয় জীবন যাপন। মাঝে মধ্যে কক্সবাজার ফাইভ স্টার হোটেলে আয়েশি ট্যুর এবং আইফোন ব্যবহার যা দেখে তরা বাসি প্রকাশ্যে না বলতে পারলেও চক্ষু আড়ালে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে চুল কাটা সেলুনে হাটবাজার সর্বত্রই রোজিনা এবং তার মেয়ে ইশানাকে নিয়ে বেশ মুখরোচক সময় পার হয় প্রতিনিয়ত।
মাদক, নারী ও সুদের ফাঁদ বানিজ্য রানী, রোজিনা এখন এতো টাকা পয়সার মালিক হয়েছে, তিনি এখন তরা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার খায়েশ জেগেছে, যার পোস্টার মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ হাটবাজার সবখানে ঝুলছে।
এদিকে রোজিনার অত্যাচারের স্টিমরোলার এতটা ভয়ংকরমুখি পথ চলছে যা মহিমা নামক (২৫) তরুণী গৃহবধূ তার অভাব মোচনের জন্য এলাকাবাসি হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা ধার দেওয়া নেওয়া করতেন, কিন্তু হঠাৎ মহিমা আক্তার তার স্বামী জহিরুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্য করে দুই লাখ টাকা ঋণ চাইলে রোজিনা আক্তার দূর্বলতার সুযোগ বুঝে একটি ব্লানক চেক জমা দিতে বাধ্য করে এবং একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করে রাখেন। যার সুদ প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দিতে হতো যা একটা পর্যায়ে সুদ দিতে অপারগ হলে মাদক,নারী ও সুদ ব্যবসায়ী রোজিনা আক্তার মানিকগঞ্জ জর্জ কোর্টে একটি চেক বাউন্স ১২০০,০০০ বারো লাখ টাকার একটা মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ভূক্তভোগী মহিমা আক্তার এখন অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছে নিজ ঘর বাড়ি ছেড়ে।
গত মার্চ মাসে মহামান্য হাইকোর্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে ব্যক্তি পর্যায়ে সুদ ও দাদন ব্যবসায়ীদের চড়া সুদে লেনদেন বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আপিল বিভাগের আইনজীবী মোঃ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। এই ব্যাপারে রোজিনার কাছে জানতে রজিনা এই প্রতিবেদকে জানান, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, একটি মহল তার বিরুদ্ধে ও তার মেয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রোজিনা মাদক ও নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর বিভিন্ন চঞ্চল্যকর তথ্য বার্তা বিচিত্রার হাতে এসেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পাঠকদের চোখ রাখতে হবে বার্তা পরবর্তী সংখ্যায়।