জলপরী শিশু পার্কে চরকা দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু : বিনোদনের নামে মৃত্যুকূপ!

Date: 2025-06-14
news-banner

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধু সিটিতে অবস্থিত ‘জলপরী শিশু পার্ক’ বর্তমানে রূপ নিয়েছে এক ভয়ঙ্কর মরণফাঁদে। বিনোদনের নামে শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এ পার্ক কর্তৃপক্ষ। আধুনিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ছিটেফোঁটাও যেখানে নেই, সেখানে ঘরোয়া মিস্ত্রি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চরকা, নাগরদোলা, পানশিসহ নানা ধরনের বিপজ্জনক রাইড—যা কোনো ধরনের অনুমোদিত নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে না।

গত ১২ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে পার্কের ‘চরকা’ রাইডে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারায় এক কিশোর (বয়স ১২-১৪ বছর)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি ঘটে চরকার ঘূর্ণন চলাকালীন সময় যন্ত্রাংশ হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে। ছেলেটি ছিটকে পড়ে মাথায় আঘাত পায় এবং ঘটনাস্থলেই নিস্তেজ হয়ে যায়।

তবে কিশোরের পরিচয় এবং পরবর্তী ঘটনার বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক আচরণ করে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পার্ক কর্তৃপক্ষ ওই কিশোরের পরিবারকে অর্থ দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করে এবং তাকে 'শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী' হিসেবে প্রচার চালায়।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, "যদি ওই কিশোর সত্যিই প্রতিবন্ধী হয়ে থাকে, তবে তাকে কেন নাগরদোলায় উঠতে দেওয়া হলো? কেন তার কাছে টিকিট বিক্রি করা হলো? কেন কর্তৃপক্ষ কোনো ধরণের বাধা দিল না?"

সাংবাদিকদের সরেজমিন উপস্থিতিতে পার্ক ম্যানেজার ও কর্মচারীরা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। বরং তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং গণমাধ্যমকে অসহযোগিতা করেন। পার্কের ম্যানেজার আজাদ হোসেন বার্তা বিচিত্রাকে  মুঠোফোনে জানান, ছেলেটি প্রতিবন্ধী ছিল,  তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।  হাসপাতালে ছেলেটি মৃত্যুবরণ করেন।  

চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এত বড় দুর্ঘটনার পরেও জলপরী শিশু পার্ক এখনো সম্পূর্ণরূপে চালু রয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, "কোথায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি? কারা এই পার্ককে অনুমোদন দিয়েছে? শিশুর মৃত্যু কি এখন আর কোনো বিষয় না?"

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট দায়িত্বশীল তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

শিশুদের বিনোদনের আড়ালে মৃত্যুকে বাণিজ্যে পরিণত করা হলে, তার পরিণতি যে ভয়াবহ হতে পারে, জলপরী শিশু পার্ক সেই নির্মম উদাহরণ। এখন প্রয়োজন কঠোর তদন্ত ও পার্কটির বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ।

Leave Your Comments