বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ ট্রাম্পের

Date: 2025-06-05
news-banner

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাইডেনের মানসিক দক্ষতার অবনতি হলেও তার সহযোগীরা তা গোপন রেখেছিলেন। নথিপত্র স্বাক্ষর করতে বাইডেন ‘অটোপেন’ ব্যবহার করতেন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন তিনি।


গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময়ই বাইডেনের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তার দাবি, বাইডেন মানসিকভাবে সক্ষম ছিলেন না এবং তার হয়ে অন্যরা রাষ্ট্র চালিয়েছেন। ট্রাম্পের আরও দাবি, বাইডেন নথিপত্র স্বাক্ষর করতে যান্ত্রিক কলম ব্যবহার করতেন। যার ফলে তার সই করা আদেশগুলো সব ‘অবৈধ’।

 
গত বুধবার (৪ জুন) বিষয়গুলো তদন্তের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য প্রেসিডেন্টের আইন উপদেষ্টা, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংশ্লিষ্ট দফতর প্রধানদের একে অপরের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই ষড়যন্ত্র আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বিপজ্জনক ও গভীর উদ্বেগজনক কেলেঙ্কারি। মার্কিন জনগণকে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধকারে রাখা হয়েছে—কারা প্রকৃতপক্ষে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করছিল, তা জানতে দেয়া হয়নি।’
 

রিপাবলিকানদের অভিযোগ, বাইডেনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ার পরও তা গোপন রাখা হয়। বাইডেনের খুব কম সময় জনসম্মুখে আসা, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে অনীহা এবং বিতর্ক অনুষ্ঠানে হতাশাজনক পারফরম্যান্সকে তার মানসিক অক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
 
গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে ৮১ বছর বয়সি বাইডেন কথা বলতে গিয়ে বারবার গড়বড় করেন ও মনোসংযোগ হারান। এতে তার পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা ধাক্কা খায়। পরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর থেকেই তাকে প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
 
তবে শুরুতে চাপ মোকাবিলা করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে মনোনয়ন দিয়ে সরে দাঁড়ান। তবে নির্বাচনে তিনিও ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন।
 
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বইয়ে দাবি করা হয়েছে, বাইডেনের নিকটজনেরা তার মানসিক অবস্থা খারাপ জেনেও তা গোপন রেখেছিলেন। এমনকি তিনি কখনো কখনও পরিচিত মুখ চিনতে পারতেন না, যেমন অভিনেতা ও ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থক জর্জ ক্লুনিকে ভুলে গিয়েছিলেন।
 

 
সম্প্রতি বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। এ খবরও ট্রাম্পের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। কেউ কেউ দাবি করছেন—এই রোগের বিষয়টি আগে থেকেই বাইডেনের আশপাশের লোকজন জানতেন। কিন্তু তা গোপন রাখা হয়েছিল।
 
তদন্তে বাইডেনের নির্বাহী আদেশগুলোর পেছনে প্রকৃত সিদ্ধান্তদাতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে। সেই সঙ্গে অটোপেন ব্যবহারের মাধ্যমে কোন কোন নীতিমালা চালু করা হয়েছিল তাও খতিয়ে দেখা হবে।

Leave Your Comments