নিজস্ব প্রতিনিধি:
এক সময়ের ইউনিক পরিবহনের একজন সাধারণ চালক, আজ তিনি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি—জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল হক। অল্প সময়েই চমকপ্রদ গতিতে তার উত্থান ঘটেছে, আর এখন তিনি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নন, বরং কোটি কোটি টাকার মালিক। সাভারে তার রয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলিশান বাড়ি, চলাফেরা করেন কোম্পানির বিলাসবহুল গাড়িতে, জীবনযাপন করেন একজন কর্পোরেট কর্মকর্তার চেয়েও অভিজাতভাবে।
উত্থানের আড়ালে অন্ধকার অধ্যায়
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্যচিত্র। আব্দুল হকের এই আর্থিক সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ইউনিক পরিবহনের বহুমুখী রুট থেকে আদায় করা মোটা অঙ্কের অনৈতিক অর্থ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল রোডে চলাচলকারী প্রতিটি গাড়ির যাত্রাবিরতির হোটেল বা রেস্টুরেন্ট থেকে তিনি প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করে থাকেন। বিনিময়ে ঐসব হোটেল মালিকরা গাড়িতে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের নামে দ্বিগুণ মূল্য আদায় করলেও তা উপেক্ষা করা হয়, বরং গোপনে অনুমতি প্রদান করেন হক সাহেব।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়ানক দৃষ্টান্ত
এইভাবে একটি গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান কেবল যাত্রীসেবা নয়, বরং শোষণের মডেলে পরিণত হয়েছে। পরিবহনখাতের আরও বিভিন্ন ‘সেক্টর’ থেকেও মাসিক ভিত্তিতে কোটি টাকার ওপরে আয় করেন আব্দুল হক, যা তার ঘোষিত আয় ও জীবনযাপনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রশাসনের নীরবতা ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা
যেখানে এইসব তথ্য প্রশাসনের জানা থাকার কথা, সেখানে এমন ব্যক্তির উত্থান ও দাপট এক ধরনের নৈতিক ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে। দুর্নীতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের পরিবহনখাত কেবল ক্ষতিগ্রস্তই হবে না, বরং যাত্রীসাধারণও প্রতিনিয়ত প্রতারিত হবেন।
ড্রাইভার থেকে কোটিপতি হওয়া আব্দুল হকের এই উত্থান যদি প্রকৃত merit বা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে হতো, তবে তা এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প হতো। কিন্তু অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা। এ যেন এক বাস্তব ‘কাহিনী’ যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি আর ছলচাতুরীই হয়ে উঠেছে সাফল্যের সিঁড়ি। এ ব্যাপারে আব্দুল হকের মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন আমার ব্যাপারে যে অবিযোগ গুলো তোলা হয়েছে সেগুলো সম্পন্ন মিথ্যা। বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায়।