উজানের পানিতে শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়ক নিমজ্জিত

Date: 2025-06-03
news-banner

উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি খুব দ্রুততার সঙ্গে কমছে। এতে বন্যা আতঙ্কিত নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে মৌলভীবাজার শহরতলির মাতারকাপন এলাকার শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়ক মনুর পানির চাপে দুটি স্থান তলিয়ে গেছে। এতে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে ছোট বড় যানবাহন চলাচল করছে।


মঙ্গলবার (৩ জুন) মনুনদী মনু রেলওয়ে ব্রিজের কাছে দুপুর ১২ টায় ১৮০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনুনদী জেলা শহরের চাঁদনীঘাট এলাকা পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও অন্যসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। 


পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় সবকটি নদনদীর পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এদিকে উজান থেকে পানি নেমে আসায় মনুনদীর নিচ দিকে পানির চাপ বাড়ছে। এতে পানির চাপে মৌলভীবাজার শহরতলির মাতারকাপন এলাকার শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়কের দুটি স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে এ রোডে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। 


স্থানীয় লোকজনরা জানিয়েছেন, গত রোববার ভারতের উজানে প্রবল বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীতে পানির চাপ ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। এতে এ দুটি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে পাহাড়ি ছড়া ও নানাভাবে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। 



এতে গতকাল সোমবার (০২ জুন) রাত থেকে  জেলা শহর থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা শহরে যাওয়ার রাস্তা শমশেরনগর- মৌলভীবাজার সড়কটির মাতারকাপন এলাকার একাধিক নিচু স্থান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সড়কে প্রথমদিকে সাময়িক সময়ের জন্য যানচলাচল বিঘ্ন ঘটে। তবে সড়কে পানি তুলনামূলক ভাবে কমে আসায় সব ধরনের ছোট বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। 


সরেজমিনে শমশেরনগর-মৌলভীবাজার মাতারকাপন সড়কে গেলে দেখা যায়,লোকজন হাঁটু পানি ভেঙে জেলা শহরের দিকে আসছেন। তবে এও দেখা গেছে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে একাধিক সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস রাস্তায় আটকে আছে। এতে এ সড়কে যাতায়াতকারি লোকজনরা চরম দূর্গত পোহাচ্ছেন। কথা হয় মাতারকাপন ছড়ারপাড় এলাকার একাধিক লোকজনের সাথে। 


নূর মিয়া ও সোহেল আহমেদ জানান, মাতারকাপনসহ এখানের বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমিতে আউস এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত পুরোটাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিচু স্থানের বেশকিছু বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। 



কৃষক নূর মিয়া জানালেন, তার গ্রীষ্মকালীন সবজি আগাম জাতের শিমসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করেছিলেন। শিম এ পর্যন্ত এক হাজার টাকার বিক্রি হয়েছিল। শিম গাছে ব্যাপক ফুল আসছিল। ঠিক এ সময়ের আকস্মিক পানি সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। 


তিনি জানান, পানি কমতে থাকলেও এ গ্রামসহ আশপাশ গ্রামের ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যা পূরণ হবে না। এ এলাকার লোকজনের দাবি পাহাড় বর্শিজোড়ার পাহাড়ি পুরানো ছড়াটি ( খাল) সংষ্কারের। তাছাড়া বিকল হয়ে থাকা হামহামি ছড়া স্লুইস গেইটটি পুনর্নির্মাণ ছাড়াও এ ছড়া খননের খুবই প্রয়োজন।

Leave Your Comments