ফরিদপুরে চাঁদাবাজী মামলার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর গোলাম হায়দারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজ বাড়ি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহিদনগর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। তিনি এলাকায় স্ব-ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।
মঙ্গলবার (০৩ জুন) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগরকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, রাতেই তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং আজ বেলা ১১টার দিকে গ্রেফতার সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হায়দারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফরহাদ হোসেনও রয়েছেন।
বাকিদেরও অভিযানের সময় গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান।
থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন কোদালিয়া শহিদনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো. রাজু মোল্যা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ রাতেই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
মামলার বাদী রাজু মোল্যা বলেন, ‘পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রবীণ হওয়ায় বর্তমানে আমি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার দায়িত্ব পালনকালে পরিষদে কোনো মালামাল এলে মেজর গোলাম হায়দার বিভিন্ন সময় তার ভাগ দাবি করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় কাবিখা-কাবিটার ভাগ হিসেবে টাকা দাবি করে আসছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘গত ২৯ মে ফরহাদ নামে এক ব্যক্তি আমাকে গণকবরের পাশে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে মেজর নিজেই বসা ছিলেন এবং ভাগ না দিলে আমাকে হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। সোমবার বিকেলে হঠাৎ করে নগরকান্দা বাজারে আমার দোকানে সামনে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে আসেন এবং এসেই মেজরের নামে হুমকি দিয়ে যান। পরে আমি থানায় গিয়ে অভিযোগ করি।’
তিনি আরও বলেন, এই মেজরের ভয়ে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তিনি এনসিপির ক্যান্ডিডেট (প্রার্থী) পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন।’
জানা যায়, গ্রেফতার মেজর গোলাম হায়দার স্ব-ঘোষিত এনসিপির প্রতিনিধিত্ব করতেন। এ ছাড়া ফরিদপুর-২ আসন থেকে সংগঠনটির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ ছাড়া সচেতন সমাজের আহ্বায়ক হিসেবে এলাকায় পোস্টার টাঙিয়েছেন। গত ২৪ মে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে জাতীয় নাগরিক পার্টি আয়োজিত মতবিনিময় ও জনতার সংলাপে এনসিপি প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্যও রাখেন তিনি।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলার সংগঠক মো. বায়োজিদ হোসেন (সাহেদ) বলেন, ‘উনি এনসিপির কেউ না। আমাদের দলে যোগদানের জন্য অনেকেই যোগাযোগ করছেন, বিভিন্ন প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করছেন। সে হিসেবে মেজর হায়দার সাহেবও ছিলেন। কে কেমন সেটাতো এখনও আমরা জানি না। তবে বিষয়টি কেন্দ্রকে অবগত করা হবে।’
এ বিষয়ে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানা জানান, উনি (মেজর হায়দার) এনসিপি কিংবা বৈষম্যবিরোধীর কেউ না। উনি আমাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেছেন। উনাকে গ্রেফতার করা মানে ভালো খবর। কারণ, তিনি বৈষম্যবিরোধীর উপদেষ্টা পরিচয় দিয়েও মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন।