আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন সভাপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে: বিসিবির আইনজীবী

Date: 2025-06-02
news-banner

বিসিবি'র সভাপতির পদ থেকে অপসারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফারুক আহমেদের করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এনএসসি গভীর রাতে ফারুকের মনোনয়ন বাতিল করে। ফলে বিসিবির সভাপতির পদ হারান তিনি। যে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গতকাল রোববার (১ জুন) হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন বিসিবির এই সদ্য সাবেক সভাপতি।


গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ এক যুগ পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসে। তৎকালীন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন পদত্যাগ করেন। তার জায়গায় সভাপতির পদে বসেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনীত কাউন্সিলর হিসেবে বিসিবিতে পরিচালক হন তিনি এবং সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন।


কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার  ব্যক্তিগত বাসভবনে ডেকে ফারুককে আর সভাপতির পদে না রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর সেদিনই বিপিএল সংক্রান্ত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং নয়জন বোর্ড পরিচালকের আটজনের অনাস্থা বিবেচনায় নিয়ে এনএসসি গভীর রাতে ফারুকের মনোনয়ন বাতিল করে। ফলে পদ হারান তিনি।

পরদিন (শুক্রবার) বিকেলে আরেক সাবেক অধিনায়ক ও টেস্টে দেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন। পরিচালকদের সর্বসম্মতিক্রমে ভোটে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ১৭তম সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।


এর প্রেক্ষাপটে রোববার (১ জুন) হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সদ্য পদ হারানো সভাপতি। বিসিবির সভাপতির পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি  এনএসসি কর্তৃক বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নিয়োগের সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এই রিটে।

আজ সোমবার ফারুক আহমেদের করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ব্যাপারে বিসিবির আইনজীবীরা জানান, আইনের মধ্যে থেকেই নতুন করে সভাপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব নেয়ার পর দুটি বোর্ডসভা হয়েছে,আইসিসিকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটিই লিখিতভাবে আইসিসিকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিসিবির আইনজীবীদের একজন বলেন, 'বিসিবির স্ট্যান্ড আসলে খুবই সিম্পল। এটা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এখতিয়ার। জনাব ফারুক আহমেদ সাহেবও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত পরিচালক ছিলেন এবং এখন যিনি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, উনিও (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত। এটা ওনাদের (এনসিসি) এখতিয়ার। বিসিবির কনস্টিটিউশন অনুযায়ী ওনাদের এই সুযোগ আছে। এটা ওনাদের জয় রিজার্ভ করা। তো ওনারা যেটা করেছেন ওনাদের প্রসেসের ভেতরে থেকেই।

'আমাদের পজিশন হলো, আমরা বোর্ডে ওনাকে (বুলবুল) গ্রহণ করেছি। এরপর ইলেকশন হয়েছে। ইলেকশনে তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে দুটি বোর্ড মিটিংও হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে। আইসিসিকেও অবহিত করা হয়েছে। বিসিবির পজিশন ক্লিয়ার, আমরা মনে করি এটা আইনসম্মত হয়েছে। যহেতু আমাদের বোর্ড অব ডিরেক্টর এটা এক্সেপ্ট করেছেন এবং তাকে নির্বাচিত করেছেন।'

Leave Your Comments