নরসিংদীর বেলাবোতে পোড়াদিয়া বাজারের ইজারাদার বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Date: 2025-05-31
news-banner

বেলাবো (নরসিংদী) প্রতিনিধি: 

নরসিংদীর বেলাবোতে পোড়াদিয়া বাজারের সাবেক ইজারাদার বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে ৬৭ জন শেয়ারের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে৷ 

পোড়াদিয়া বাজারের ইজারা বিগত আওয়ামী সরকারের  আমলের ১৫ বছরের মধ্যে ১২ বছরই ছিলো মাফিয়া খ্যাত বাচ্চু মিয়া ও তার গংদের দখলে। দুর্নীতির বরপুত্র শিল্পমন্ত্রী ছেলে সাদিকে ব্যবহার করে প্রতিবারই বাজার তার নিয়ন্ত্রনে রাখতো।


খোজ নিয়ে জানা যায়, সাদীর পিছনে তার প্রায় কোটি টাকার খারচ। পোড়াদিয়া বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী জানান, বাচ্চু মিয়া ও তার গংদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। বাচ্চুর ক্যাডার বাহিনী প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ পূর্বেও ঘুরে বেড়াত, এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। 

গ্রামের অন্তত ৬৭ জনের কাছ থেকে ইজারার শেয়ারের নাম করে যে টাকা নিয়েছিলো তার অধিকাংশ শেয়ার মেরে দিয়েছে। কারও কারও টাকা দিলেও নামে মাত্র দিয়েছে। তবে টাকার জন্য বললে ক্ষমতা ও মন্ত্রীর ভয় দেখাতো। মামলা হামলা মন্ত্রীর পুত্রের ভয়ে কেউই মুখ খোলার সাহস পেত না। 

এমনকি বিগত আওয়ামীলীগ সরকার দেশ ছেড়ে পালালেও বাচ্চু গংদের দৌরাত্ম কমেনি। একাধিক ভূক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায় বাজার শেয়ারের নামে ৬৭ জনের কাছ থেকে ১.৫-২ লাখ টাকা করে নিয়ে ইজারার টাকা যোগাঢ় করতো কিন্তু বাজার প্রতি নামে মাত্র কিছু দিত। বছর শেষে বাজার ইজারার হিসাব চাইলে তার তালবাহানা শুরু হয়। ভূক্তভোগী কয়েকজনকে প্রকাশ্যে হুমকী দেয় বাচ্চু মিয়া। 

শেয়ারের টাকার হিসাব চাইলে বাচ্চু মিয়া শেয়ারহোল্ডারদের বলেন,  ডিসি, এসপি, মন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা তার পকেটে। তার ইচ্ছা হলে টাকা দিবে। যাকে যত ইচ্ছা ততো দিবে। 

অভিযোগকারী পোড়াদিয়া বাজারের ইজারার একজন শেয়ার হোল্ডার রাফেজা খাতুন বলেন,  তার কাছ থেকে পোড়াদিয়া বাজারের ইজারার জন্য বাচ্চু মিয়া ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। শর্ত হচ্ছে প্রতি বাজারে ৫০০ করে টাকা দিবে। আর বছর শেষে ১ লাখ ৫০ হাজার সাথে লাভের অংশও পাবে। কিন্তু মেয়াদ শেষে তাকে মাত্র ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকী ৯০ হাজার টাকায় আত্মসাৎ করে ফেলে বাচ্চু মিয়া। এরকম ৬৭ জন শেয়ারের সবার কাছ থেকেই অর্ধেক টাকা করে  প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ফেলে। এ টাকা ফেরত চাইলে নানা রকম তালবাহানা, বাজারে লাভ হয়নি বলে বুঝ দিতে থাকে। এতে প্রায় অনেকেই বিভিন্ন সমিতি ও ধার কর্য করে টাকা এনে বাজারের ইজারার শেয়ার হয়েছিলো তাদের সবারই মাথায় হাত। কারন ইজারার সম্পূর্ণ আসল টাকা একমাত্র বাচ্চু মিয়া ছাড়া কেউ নিতে পারে নাই বলে রাফেজা খাতুন জানান। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর পোড়াদিয়া বাজারে লাভ করতে পারি নাই বলে শেয়ারের আসল টাকা কাউকে দিতে পারি নাই। প্রায় ৯ বাজারে ইজারার লক্ষ্যমাত্রার টাকা উত্তোলন করতে পারি নাই। 
গত বছর পোড়াদিয়া বাজারের ইজারা কত ছিলো জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়া বলেন, সরকারী হিসাবে ৭৬ লাখ, ভ্যাট সহ প্রায় ১ কোটি টাকার ইজারা কিন্তু ইজারা আনতে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিভিন্ন নেতা কর্মী, মন্ত্রীর ছেলে, গান বাজনা, মাজার, মেলা, খেলাধুলা,  নাটকের জন্য টাকা দিতে হয়েছে এসব টাকা কি আমি বাড়ি থেকে এনে দেবো? তাই সবাইকে হিসাব করে যে যতটুকু পাবে ততটুকু দিয়েছি। 
বাচ্চু মিয়ার কাছে বাজারের ইজারার টাকা না উত্তলন হবার কারন জানতে চাইলে বলে, এবার ৯ বাজার মাইর দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি বিধায় ক্ষতি হয়েছে। আমি নিজেও সমিতি থেকে ২৫ লাখ টাকা এনে বাজারের ইজারাতে দিয়েছি। আমার কাছে কারো কোনো টাকা পয়সা নাই। 

বাকী শেয়ারহোল্ডারদের আসল টাকা না দেবার বিষয়ে জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সবাই বসে হিসাব নিকাশ করে, লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করে যে যত পাবে তাকে ততই দিয়েছি। রাফেজা খাতুন নামে মহিলা ১ লাখ ৫০ হাজার দিয়ে শেয়ার হয়েছে স্বীকার করে বলেন, মহিলাকে ৬০ হাজার আর প্রতিবাজারে ৫০০ করে ২৫ হাজার মোট ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু সবার থেকে বেশি সেই পেয়েছে মর্মে বাচ্চু মিয়া দাবী করেন। তবে ক্ষতির টাকা কে পোষাবে জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়া বলেন, আমি কোথায় থেকে দেবো? তিনি ইজারার টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ করেছে মর্মে সকল শেয়ারহোল্ডারদের জানিয়েছেন। সুতরাং তিনি পোড়াদিয়া বাজারের ইজারা থেকে কোনো টাকা আত্মসাৎ করে নাই মর্মে বক্তব্য দেন। এমনকি প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করার ভয়ও দেখান তিনি।

Leave Your Comments